মানব গুহ: দেশের ক্রিকেট ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি ফিটনেস চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে৷ মোদীজি আবার সেই চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী ও কমনওয়েলথ গেমসে সোনা পাওয়া মণিকা বাত্রাকে৷ কিন্তু মিঃ প্রধানমন্ত্রী, ফিটনেস চ্যালেঞ্জ নিয়ে ‘ছেলেখেলা’ না করে ভারতের আমজনতার মূল্যবৃদ্ধি কমানোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ ক দেখাতে পারবেন কি?
ফিটনেস বা যোগা চ্যালেঞ্জ নয়, ভারতের আমজনতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মূল্যবৃদ্ধি কমানোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে৷ বিরাট কোহলি, মণিকা বাত্রা বা স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীকে কখনও সব্জী বাজারে বাজার করতে যেতে হয় না৷ গাড়িতে পেট্রল ভরে দাম দিতেও হয় না৷ আর দিতে হলেও তাতে তাদের কিছু যায় আসত না৷

কিন্তু বাকি যে ১০০ কোটি ভারতবাসীর ‘যায় আসে’ তাদের চ্যালেঞ্জ কে নেবে? তারা ফিটনেস বা যোগা নয়, জিনিসপত্রের দাম কমানোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে৷ পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম কমানোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে৷ বাজারে আলু, পেঁয়াজ ও সব্জির দাম কমানোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে৷ সেই চ্যালেঞ্জ কে অ্যাকসেপ্ট করবে?

পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হতে চলেছে৷ যার জেরে বাজার অগ্নিমূল্য৷ বেড়েছে বাস, ট্যাক্সি, ট্রাক ভাড়া৷ সব জিনিসের দাম বেড়েছে আরও বাড়ছে৷ সংসার খরচের চিন্তায় ভারতের আমজনতার মাথায় হাত৷ সেই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রীর যোগা ভিডিও ও ‘বালখিল্যে’র ফিটনেস চ্যালেঞ্জে প্রথমে হাসির উদ্রেক হলেও পরে তা মানুষের বিরক্তিই বাড়িয়েছে৷ ট্রেনে, বাসে সাধারণ মানুষের সেই বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়৷

পেট্রল ৮০ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে৷ ডিজেল ৭০ টাকার উপরে৷ কলকাতায় জ্যোতি আলু ১৮ টাকা কেজি৷ পেঁয়ার ২৫ টাকা৷ সব সব্জীই প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি৷ এর মধ্যে গাজর, ঝিঙে ৪০ ছাড়িয়েছে৷ পেট্রলের দাম বাড়ার পর বেড়েছে মাছের দামও৷ রুই কাতলা ২৫০ ছুঁয়েছে৷ আগুন লেগেছে বাজারে৷ আর সেই বাজারের আগুনে এমনিতেই মানুষের মাথায় চিন্তার পাহাড়৷

এর মধ্যে ব্যাংকের রেপো রেট বাড়ায় হোমলোনের সুদ বেড়েছে৷ ব্যাংক ও পোস্ট অফিসের সুদ কমায় এমনিতেই বয়স্ক ও রিটায়ার্ড মানুষদের চিন্তার শেষ নেই৷ উচ্চবিত্ত ও কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারী চাকরিজীবী ছাড়া সাধারণ মানুষের মাথায় হাত৷ দিন চালানোর চিন্তায় ভারতবাসীর স্বাস্থ্য খারাপের দিকে৷ এই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ফিটনেস চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন৷ যেখানে জীবন চালানোর ভাবনায় আম ভারতবাসীর মানসিক ও শারীরিক ফিটনেস তলানিতে৷

সর্বত্র মূল্যবৃদ্ধির জ্বালায় চিন্তিত সাধারণ মানুষকে কি এইভাবে আর ছেলে ভোলানো ভিডিওতে ভুলিয়ে রাখা যাবে? দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ১০০ কোটি ভারতবাসীকে নিজের ‘ফিটনেস চ্যালেঞ্জ’ দিয়ে হাসাতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? সব জিনিসের ‘মূল্য বৃদ্ধির জমানা’য় সাতসকালে নিজের ফিটনেস ভিডিও ছড়িয়ে দেশের মানুষকে আর বোকা বানিয়ে রাখতে পারবেন মোদী?

প্রশ্ন কিন্তু উঠছে৷ আর কে না জানে সামনের বছরেই কিন্তু লোকসভা ভোট৷ এই সময় ‘মানুষের চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করতে না পারলে, মানুষ আবার ৫ বছরের জন্য আপনাকে গ্রহণ করবে কিনা সেই প্রশ্নও কিন্তু উঠছে৷ তাই মি: প্রধানমন্ত্রী, ফিটনেস চ্যালেঞ্জ নিয়ে ‘ছেলেখেলা’ না করে আমজনতার দাম কমানোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাটাই এই মূহুর্ত্বে বেশ বুদ্ধিমানের কাজই হবে৷