স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: নেই রাজা৷ নেই রাজত্ব৷ কিন্তু তাও এলাকাবাসী নিয়ম মেনে করে আসে মালদহে চাঁচল রাজবাড়ির দুর্গা পুজোয়৷ এই পুজো প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো৷ কথিত আছে ওই রাজবাড়ির এক রাজার নাম ছিল রাম৷ তিনি রাজা রামচন্দ্র নামেই পরিচিত ছিলেন৷ এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন তিনি৷ তারপর থেকে বংশপরম্পরায় পুজো হয়ে আসছে৷

কথিত আছে রাজা রামচন্দ্র স্বপ্নাদেশ পান পাহাড়পুরের মহানন্দা নদী ঘাটে দেবী সতী পড়ে রয়েছেন৷ ছুটে যান তিনি সেই ঘাটে। অষ্টধাতু দেবীর মূর্তি পান তিনি। এরপর ওই দেবী মূর্তিকেই প্রতিষ্ঠা করা হয় চাঁচল রাজ ঠাকুর বাড়িতে। শুরু হয় পুজো। এই মূর্তির রূপ দশভুজা। দেবী দুর্গার মত নয়। দেবী উমা এখানে চতুর্ভুজ।

বিগত দিনে বলি হত এই পুজোতে। আজ সেই প্রথা উঠে গিয়েছে। তবে ধরে আছে সেই ঐতিহ্য। রাজ পরিবারের নিয়ম মেনেই দেবীর আরাধনা করা হয় আজও। চাঁচলের বাসিন্দারাই আজ এই পুজোর আয়োজন করেন। চাঁচল রাজবাড়ির রথেই দেবীকে আনা হয়। ছোট শিশুর মতন দেবী উমাকে কোলে নিয়ে শোভাযাত্রা করে বরণ করা হয়। পায়েস লুচি সহ একাধিক পদ তৈরি করে চলে পুজোর চারদিন দেবীর অন্নভোগ।

এই দেবীর বিসর্জনে রয়েছে বিশেষত্ব। গোধূলি লগ্নেই এই দেবীর বিসর্জন করার প্রথা রয়েছে। তা আজও পালন করা হয়। শুধু তাই নয় দেবী বিসর্জন ঘাটের উলটো পাড়ে লন্ঠন হাতে আলো দেখানো হয়। আর লন্ঠন হাতে দেবীকে আলো দেখান মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। সেই আদি যুগ থেকেই এমন প্রথা প্রচলিত রয়েছে। যা বর্তমানেও প্রচলিত রয়েছে। চাঁচল রাজবাড়ির এই পুজোকে ঘিরে পুজোর আমেজে মজে থাকেন এলাকাবাসী।