স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সামনেই পুরভোট৷ তার আগে তোষণ প্রসঙ্গ নিয়ে নিজের নীতি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বৃহস্পতিবার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ছিল কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। সেখানে গিয়ে মমতা বলেন, তিনি আদৌ মুসলমান তোষণ করেন না।

মমতা বলেন, “কেউ কেউ বলে আমি মুসলমান তোষণ করি। কিন্তু আমি আসলে মানবতার তোষণ করি।” তিনি বলেন, “আজকাল কেউ কেউ উদ্ভট ধর্মের কথা বলে। যাদের ভাল লাগবে ওদের তাদের রাখবে, আর যাদের ভাল লাগবে না তাদের বের করে দেবে। আমরা ওই ধর্মের বিশ্বাসী নয়।”

মমতার বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ কম নয়। ২০১১ সালে বাংলায় ক্ষমতায় এসেই ইমাম ভাতা চালু করেছিলেন মমতা। তখন থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। তার পর ঈদের দিন রেড রোডে গিয়ে নমাজ পড়া ইত্যাদি ঘটনাকে সামনে রেখে গেরুয়া শিবির বার বার তাঁর বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতি করেছে। এমনকী পুলওয়ামায় সেনাবাহিনীর কনভয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর মোদী সরকার যখন পাকিস্তানকে দায়ী করেন, তখনও মমতা বলেছিলেন তদন্ত না করেই কেন দোষারোপ করা হচ্ছে। সেইসময় অনেকে মনে করেছিলেন, সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ককে খুশি রাখতেই হয়তো এ কথা বলছেন দিদি।

লোকসভা ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয় হয়৷ সেইসময় সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে ছিলেন, সামনে ঈদ আসছে। তিনি অবশ্যই ইফতারে যাবেন। তাঁর কথায়, “আমি তো মুসলিম তোষণ করি। যে গরু দুধ দেয় তার লাথও খাব।” মমতার সেই মন্তব্য লুফে নেয় বিজেপি৷ সেইসময় তারা বলে, এতদিনে সত্যি কথাটা বেরিয়েই গেল মুখ থেকে। উনি যা করেছেন, তাতে বাংলায় সংখ্যাগুরুদের ভাবাবেগ বার বার আহত হয়েছে। রাজ্যে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করেছেন উনিই।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, পুরভোটের প্রচারে বিজেপি যে তাঁর বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতিকে হাতিয়ার করবে সেটা ভালমতোই জানেন মমতা৷ তাই আগে থেকেই নিজের নীতি স্পষ্ট করলেন তিনি৷ তবে গেরুয়া শিবির সেটা আদৌ মানবে কিনা সেটাই ব্যাপার৷

উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর শোনা যায়, দলের নেতা-মন্ত্রীদের থেকে দিদি যখন ১৮ টি আসনের পরাজয়ের কারণ শুনতে চান, তখন অধিকাংশেরই জবাব ছিল যে মেরুকরণের রাজনীতিরই খেসারত দিতে হয়েছে তাঁদের। বেশিরভাগ হিন্দু প্রধান এলাকাতেই ভরাডুবি হয়েছে দলের। বিপরীতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে দলের জয়ের ব্যবধান বেড়েছে। এমনকী বাম বা কংগ্রেসের হিন্দু ভোট যখন বিজেপি-র দিকে গিয়েছে, তখন তাদের মুসলিম ভোটের মেরুকরণ হয়েছে তৃণমূলের অনুকূলে।