পিয়ংইয়ং:  এবার আর মিসাইল পরীক্ষা নয়! সব কিছুকে ছাপিয়ে সরাসরি চন্দ্রাভিযানের দিকে পা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া। সামনের দশ বছরের মধ্যে চাঁদে নিজেদের পতাকা পোঁতার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন কিম জঙ উন।  ২০২০ সালের মধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথে আরও উন্নত স্যাটেলাইট স্থাপনের আশাও করছে এই দেশ।

আর কোনও স্যাটেলাইট স্থাপন বন্ধের উদ্দেশ্যে করা আন্তর্জাতিক বিধির থাকলেও, এই পদক্ষেপ থেকে বিরত না থাকার কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া’র মহাকাশ গবেষণা সংস্থার একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, এটি এরপর সেখান থেকে চাঁদের দিকে যাচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস ডেভেলপমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর বিজ্ঞান গবেষণা বিভাগ-এর কর্তা হিওন কোয়াং বলেন, “যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর জোটেরা আমাদের মহাকাশ উন্নয়ন বন্ধ করতে যাচ্ছে, আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মহাকাশ জয় করবে আর চাঁদে ডেমোক্রেটিক পিপল’স রিপাবপলিক অফ কোরিয়া-এর পতাকা স্থাপন করবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হয়তো তাদের জন্য কঠিন হবে, কিন্তু অসম্ভব নয়। এখন পর্যন্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্রই চাঁদে মানুষ পাঠিয়েছে আর এরপর কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও তা আর হয়নি। তবে, অন্যান্য দেশগুলো চন্দ্রপৃষ্ঠে তাদের যন্ত্র পাঠানোর মাধ্যমে পতাকা স্থাপন করেছে, জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

বর্তমানে উত্তর কোরিয়া পৃথিবী পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইট স্থাপনের পাঁচ বছরের পরিকল্পনার দিকে জোর দিচ্ছে। এরপর তারা তাদের প্রথম জিওস্টেশনারি যোগাযোগ স্যাটেলাইট স্থাপনে নজর দেবে। চাঁদে যেতে তারা এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাবে বলে জানিয়েছেন হিওন। ‘১০ বছরের মধ্যে’ কী হয় তা ব্যক্তিগতভাবে নিজে দেখতে পছন্দ করবেন বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ দৈনিকের প্রকাশিত খবর মোতাবেক, উত্তর কোরিয়া মহাকাশ কার্যক্রমের মাধ্যমে এমন একটি পথ বের করছে, যা তাদের সামরিক বাহিনীর জন্য দূরপাল্লার মিসাইল বানাতে সহায়তা করবে। এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ। দেশটি মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে, সেই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র মিসাইল আর হাইড্রোজেন বোমা নিয়েও ঘোষণা দিয়েছে তারা।