পিয়ংইয়ং: খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে উত্তর কোরিয়া। উপগ্রহ চিত্র থেকে পাওয়া ছবি দেখে এমনটাই দাবি করল সুইজারল্যান্ডের জিওগ্ল্যাম নামে এক সংস্থা। উত্তর কোরিয়ার ‘শস্যভাণ্ডার’ নামে পরিচিত একটি স্থান খরার মুখে পড়তেই শোচনীয় অবস্থা এই দেশটির।

রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল গত পাঁচ বছরে প্রতি ১০ জন উত্তর কোরিয়ার মধ্য থেকে চার জনের খাদ্য এবং শস্য উৎপাদন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

দেশটির অস্ত্রভাণ্ডার বাড়ানোর খাতে খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। আর এই সাঁড়াশি চাপে সঙ্গিন হয়েছে এখানকার সাধারণ মানুষের। অভিযোগ, এতদূর খারাপ অবস্থা হলেও রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উন ত্রাণ সরবরাহে রাজি নন৷

ইতিমধ্যেই চিন-সহ বেশ কিছু দেশ খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তরফ থেকে পাঠানো ৫০ হাজার টন চাল ত্রাণ হিসাবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক টানাপড়েনকেই এই ত্রাণ না ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দায়ি করছে আন্তর্জাতিক মহল।

উত্তর কোরিয়ায় এর আগে ১৯৯০ সালে খরার প্রকোপে সারা দেশজুড়ে মৃত্যু মিছিল দেখেছিল বিশ্ব। প্রাণ হারিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ।

রাষ্ট্রসংঘের মে মাসের হিসাবে অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ বাসিন্দাদের রেশন ৫৫০গ্রাম থেকে কমিয়ে ৩০০ গ্রামে নামিয়ে আনা হয়েছে।

দেশটির মূল কৃষিস্থল হল দক্ষিণ প্রদেশের উত্তর-দক্ষিণ হংঘাই এবং দক্ষিণ পিয়ংইয়ং। কিন্তু, খরার প্রকোপে এবারে খুব কম পরিমাণ শস্য উৎপাদন হয়েছে। জিওগ্ল্যাম সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ‘বৃষ্টির ঘাটতি এবং গ্রীষ্মে সেচের জল ঠিকমত ব্যবহার না করার ফলেই এই দুরাবস্থা’ এই খাদ্য সঙ্কট সহজে কাটবে না বলেও জানায় এই সংস্থা।

গত সেপ্টেম্বরেই টাইফুন লিংলিং আঘাত হানে উত্তর কোরিয়ার বুকে। ভেসে যায় বিস্তীর্ণ খেতজমি। আর এরফলেই খরার প্রকোপ আরও বেড়েছে। তখনই রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য এবং কৃষি দফতরের তরফ থেকে জানানো হয় উত্তর কোরিয়ার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের কৃষি এবং খাদ্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। ওই মাসেই আবার সোয়াইন ফ্লু পরিস্থিতি আরও ঘোরতর করে তোলে। তাতেও টনক নড়েনি কিম জং উনের সরকারের।