স্টাফ রিপোর্টার, শিলিগুড়ি: করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অন্যান্য অনেক দেশের মতোই করোনা থাবা বসিয়েছে ভারতে। বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। চিন্তিত গোটা দেশ। ক্রমেই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে মারণ করোনা। করোনা নিয়ে চিন্তিত দুই বাংলাও। করোনা মোকাবিলায় উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও উন্নত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য।

তাঁর মতে, “সারাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে শিলিগুড়িতে অল্প বয়স্কা এক মহিলার মৃত্যু খুবই বেদনাদায়ক। এর ফলে মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আমরা শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যালেটির পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে একটাই আবেদন জানাব আমাদের লড়তে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে এই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।

করোনা ভাইরাস কোনও উন্নত উনুন্নত দেশ মানে না। করোনা ভাইরাস ধনি-দরিদ্র মানে না। সে জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে। এর জন্য আমাদের সবচেয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। নিজেরা সতর্ক থেকেও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। অন্যদিকে প্রতিটি মানুষকে লকডাউন মেনে চলতে হবে। পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশে লকডাউন যে একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত পথ এই এটা সব দেশই মেনে নিয়েছে। লক ডাউনকে এড়িয়ে চলা অবহেলা অবজ্ঞা করা কোনও মতেই একজন সুনাগরিকের কাজ নয়। আমি প্রত্যেকের কাছে আবেদন জানাব– সরকারের স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য যে বিধিগুলো আছে সেই বিধিগুলো আপনারা মেনে চলুন।

এখনও উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো খুবই দুর্বল। এই দুর্বল পরিকাঠামোর ফলেই কিন্তু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক চিকিৎসকরা, চিকিৎসাকর্মীরা পর্যন্ত নিজেদেরকে সুরক্ষিত মনে করছে না। বহু জায়গায় এখনও পিপি কিটস এখনও পৌঁছয়নি। চিকিৎসকদের গায়ে সুরক্ষার জ্যাকেট যেভাবে থাকা দরকার সেটা নেই। রেইন কোট দিয়ে এরকম রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না। এর জন্য যে চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা উচিত এখনও উত্তরবঙ্গে তার অভাব আছে।

এখনও কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম এসে পৌঁছায়নি। এবং রোগীদেরকে কোয়ারেন্টাইন হোক বা বাড়িতে থাকাই হোক বা হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকাই হোক সেই ব্যবস্থাও যথেষ্ট দুর্বল, যথেষ্ট অনুন্নত। এবং এতে অসন্তোষ ব্যক্ত করছেন। আমরা চাই সমস্ত চিকিৎসক চিকিৎসাকর্মী তারা তাদের দায়িত্ব পালন করুক। আমরা সবাই তাদের পাশে থাকব। আমরা চাই তাদের সুরক্ষা সমস্ত ব্যবস্থাদি দেওয়া হোক।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বিশেষভাবে শুধু কোভিড ১৯-এর চিকিৎসা হবে– এরকম একটা ব্যবস্থা করা হোক। সরকারি হাসপাতাল বা কিছু হোটেল রাখা হোক যেখানে চিকিত্সকদের চিকিত্সা কর্মীদের থাকবার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেই ব্যবস্থা নেওয়া হোক সেটা আমরা চাইছি। আমরা সাধ্যমত মানুষকে সচেতন করার জন্য আমরা ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বসেছিলাম। তাদের বলেছি আপনাদের পাশে আমরা থাকব। তবে আপনাদেরও দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। এটা আমাদের সবারই দায়িত্ব। কেউ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। সতর্কতার সঙ্গেই আপনারা চিকিৎসা করুন।

আপনাদের সুরক্ষার বিষয়টা আমরা দেখব। প্রয়োজনে প্রয়োজনে আমরা শিলিগুড়ি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকেও সাধ্যমতো সাহায্য করব। সেজন্য একটি মেয়র রিলিফ ফান্ডের ব্যবস্থা করেছি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ৫০,০০০ টাকা দিতে চেয়েছেন। শিলিগুড়ি সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে আসুন। আপনারা আর্থিক সাহায্য করুন। যে অর্থ আমরা এই রোগের মোকাবেলা করতে ব্যবহার করতে চাইছি। আর তার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেকটা ওয়ার্ডেও আমরা একটা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী তৈরি করছি।

এই স্বেচ্ছোসেবক বাহিনীর ফোন নম্বর থাকবে। তারা মানুষের পাশে দাঁড়াবে, থাকবে, সচেতন করবে। কিন্তু সর্তকতা মেনেই করবে করবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের এই কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু যুব সংগঠন এগিয়ে এসেছে। বিভিন্ন এনজিও এবং ক্লাবগুলোকে বলব মানুষের পাশে থাকুন এগিয়ে আসুন। তাহলে আমরা সবাই মিলে এই রোগকে মোকাবেলা করতে পারব। আমরা জয়ী হবে এই রোগের বিরুদ্ধে। উই শ্যাল ওভারকাম।”