কলকাতা: নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের একাধিক এলাকায় চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের একাধিক জেলায় আন্দোলনের নামে চলে তাণ্ডবও। বাস জ্বালিয়ে, ট্রেন পুড়িয়ে কেন্দ্রের আইনের প্রতিবাদ জানানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম দশা পুলিশের।

যদিও শান্তিপূর্ণ পথে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেলপথে গত কয়েকদিনে লাগাতার অশান্তির জেরে উত্তরবঙ্গগামী বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করেছে রেলমন্ত্রক। এরই জেরে পর্যটনের ভরা মরশুমে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। ট্রেন বন্ধ থাকার জেরে ভরসা এখন বাস ও অন্য গাড়ি। সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন একশ্রেণীর বেসরকারি বাস ও গাড়িমালিকরা। শুধু বেসরকারি বাস বা গাড়িই নয়, ভাড়া বেড়েছে উত্তরবঙ্গগামী সরকারি বাসেরও।

নাগরিকত্ব সংশোধিত আইনের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। বিক্ষোভের আঁচ পড়েছে এরাজ্যেও। গত শুক্রবার থেকে বাংলার জেলায় জেলায় শুরু হয় প্রতিবাদ-আন্দোলন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে তাণ্ডব চলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। একের পর এক সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়। রেলস্টেশন, ট্রেনে চলে একের পর এক হামলা। ট্রেনে আগুনও ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। একইসঙ্গে দফায় দফায চলে রেল অবরোধ। যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় রেল। তারই জেরে বিপাকে পর্যটকরা।

কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বেসরকারি ভলভো এসি বাসের সাধারণত ভাড়া ১২০০ টাকা। এখন সেই ভাড়া বেড়ে হয়েছে ১৬০০-১৯০০ টাকা। নন এসি বাসের সাধারণভাবে ভাড়া ৫০০-৬০০ টাকা। এখন সেই ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৮০০-১০০০ টাকা। গত কয়েকদিনের অশান্তির জেরে কলকাতা-শিলিগুড়ি রুটে বাসের সংখ্যা কমেছে। উত্তরবঙ্গ পবিবহণের এসি ভলভো বাসের ভাড়া ছিল ২০০০ টাকা। এখন সরকারি ওই বাসের ভাড়া ২২০০-২৫০০ এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। নন এসি বাসের ভাড়া ৬০০ টাকা। এখন সেই ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৭০০-১০০০ টাকা। আগে রোজ ২২টি সরকারি বাস ছাড়তো। এখন ৪০-৫০টি বাস ছাড়ছে।

এদিকে উত্তরবঙ্গে ট্রেন বন্ধ থাকার জেরে ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ১ হাজার পর্যটক এখনও আটকে আছেন। অনেকেই সড়কপথে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে সুযোগ বুঝে ভাড়া বাড়ানোয় বহু পর্যটকই বিপাকে পড়েছেন। আক্ষেপের সুর উত্তরবঙ্গের হোটেল ব্যবসায়ীদের গলাতেও। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই উত্তরবঙ্গে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে বলে মনে করেছিলেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হোটেল বুক থাকলেও আদৌ পর্যটকরা কীভাবে এসে পৌঁছবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা।