স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্না ও কর্মবিরতির ডাকে নাজেহাল অবস্থা কলকাতা সহ জেলাবাসীদের৷ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগীরা৷ একই চিত্রটা দেখা গিয়েছে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে৷ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ আবু তাহের খান সহ জেলা নেতৃত্ব হাসপাতালে যান৷

লাগাতার কর্মবিরতি চলার পর হাসপাতালে যান জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান সহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তারা গিয়ে প্রথমে জুনিয়র চিকিৎসকদের এই অবস্থান তুলে নেওয়ার কথা বলেন৷

সেই সময় প্রথমে দুই পক্ষই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পরে দুই পক্ষই আলোচনায় বসে এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের উপযুক্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তিনি৷ তারপরই বিক্ষোভ অবস্থান ও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয় জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারা কাজে যোগ দেওয়ার কথা জানান।

বৃহস্পতিবার ছিল এই কর্মবিরতির তিন দিন৷ এদিন সকাল থেকেই কাজ বন্ধ রেখে ধর্নায় অনড় থাকে জুনিয়র ডাক্তাররা৷ সকালে ওপিডি খুললেও পরে তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে অন্যান্য বেশ কিছু হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরা সেই আবেদনে সাড়া দিলেও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তাররা এই আন্দোলনে অনড় বলে জানা যায়।

এদিন বিকেলে জুনিয়র ডাক্তাররা মিছিল করে, মিছিল থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ধিক্কার জানান তারা। পাশাপাশি এদিন হাসপাতালের এমএসভিপির ঘরে সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান জুনিয়র ডাক্তাররা। যদিও এমএসভিপি এদিন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসকেএমে ঢুকে কার্যত আন্দোলনরত ডাক্তারদের কার্যত হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, চার ঘণ্টার মধ্যে কাজ যোগ না দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমনকি জুনিয়র ডাক্তারদের বহিরাগত তকমা দিয়ে হোস্টেল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে চিকিৎসকদের মধ্যে ‘বিদ্রোহে’র আগুন জ্বলে উঠেছে। গণহারে ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাক্তাররা। এক্ষেত্রে জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররা