নয়াদিল্লি: ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইস্যু ছিল৷ নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন বিজেপি ক্ষমতায় আসলে সুইস ব্যাংক থেকে দেশের কালো টাকা ফেরানোর উদ্যোগ নেবে৷ তারপর অনেক জল গড়িয়েছে৷ সম্প্রতি সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে ৫০ জন ভারতীয়র তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে৷ যাদের সুইস ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রয়েছে৷

জানা গিয়েছে, এই তালিকা ভারত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷ শুধু নামের তালিকা নয়, এর সঙ্গে থাকবে তাঁদের ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্যও৷ ভারত ও সুইসজারল্যাণ্ডের মধ্যে কালো টাকা ফেরানোর যে প্রক্রিয়া, তাকে আরও ত্বরান্বিত করতেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে৷ এই তালিকায় নিশানা করা হয়েছে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকে, যাঁদের ভাঁড়ারে রয়েছে দীর্ঘদিনের জমানো বেআইনী পুঁজি৷

আরও পড়ুন : কালামকে শ্রদ্ধা জানাতে নয়া উদ্যোগ বিজেপি নেতার

এই সব ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন কোম্পানি, অর্থনৈতিক সেক্টর, টেক্টটাইল সেক্টর, সোনার ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত৷ সুইস ব্যাংকগুলি দীর্ঘদিন ধরেই কালো টাকা জমানোর ক্ষেত্রে স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে৷ সেখানে এই পদক্ষেপ নি:সন্দেহে দেশের পক্ষে শুভ৷ তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য কতটা সুখকর, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে৷

গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই সন্দেহভাজন ব্যবসায়ীদের নোটিশ পাঠিয়েছে সুইস ব্যাংক কর্তৃপক্ষ৷ ভারত সরকারের সঙ্গে তাদের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ ব্যাংকের কাছে এই সব অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যথেষ্ট তথ্য না থাকার কারণেই অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ তবে এখনও কোনও সদর্থক সমাধান মেলেনি বলে খবর৷

সুইস সরকার গত এক বছর ধরে প্রায় ১০০ জন ভারতীয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য যোগাড় করার চেষ্টা করছে৷ এই ১০০ জন ভারতীয়ের অ্যাকাউন্ট স্ক্রুটিনি করে দেখছে সুইস ব্যাংক বলে সূত্রের খবর৷

আরও পড়ুন : সরকারি প্রকল্পের বিরোধিতা করে অধিকৃত কাশ্মীরে গ্রেফতার ৬০

বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী, যাদের নোটিশ পাঠিয়েছে সুইস ব্যাংক, তাদের নাম জানা গিয়েছে৷ সুইস সরকারের ফেডেরাল গেজেটে নাম উঠেছে কৃষ্ণা ভাগবান রামচাঁদ, পটলুরি রাজামোহন রাও, কল্পেশ হর্ষাদ কিনারিওয়ালা, কুলদীপ সিং দিঙ্গারা, ভাস্করন নলিনি, ললিতাবেন চিমানভাই প্যাটেল, সঞ্জয় ডালমিয়া, পঙ্কজ কুমার সারাওগি, অনিল ভরদ্বাজ, তরণী রেনু তিকামদাস, মহেশ তিকামদাসের মত ব্যবসায়ীর৷ এই নাম পাওয়া গেলেও, বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে পুরো নামই নেই৷ রয়েছে নামের আদ্যক্ষর৷

২০১৪-এ বিজেপি সরকার কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপরও সুইস ব্যাংকে জমা করা ভারতীয়দের অর্থের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। সুইস ব্যাংকে বিদেশিদের রাখা টাকার নিরিখে ভারতের স্থান এখন ৭৩৷ সুইস ব্যাংকের তরফে জানানো হয়, ২০১৫ সাল থেকে দাবিদারহীন ৩৫০০টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে ওই ব্যাংকে। ২০১৫-এ প্রথম এই সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করে সুইস ব্যাংক। ২০১৭-এ উপযুক্ত দাবিদারদের হাতে তাঁদের গচ্ছিত টাকা তুলে দিয়ে এই তালিকা থেকে এমন ৪০টি অ্যাকাউন্ট এবং দুটো সেফ ডিপোজিট বক্স মুছে ফেলা হয়।