নয়াদিল্লি: শাহিনবাগে গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে চলা একটানা আন্দোলনের জেরে দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল নয়ডা-ফরিদাবাদ রোডের সংযোগস্থল। এবার শীর্ষ আদালত নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতায় কাটল জট। নয়ডা-ফরিদাবাদ রোডের সংযোগস্থল থেকে সরলেন আন্দোলনকারীরা। খুলে গেল নয়ডা যাওয়ার রাস্তা।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের দাবিতে একটানা দিল্লির শাহিনবাগে আন্দোলন করছেন মহিলারা। আন্দোলনের জেরে এককথায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এলাকার পরিবহণ ব্যবস্থা। নিত্যদিন ঘুরপথে অফিস বা কর্মস্থলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে স্কুল-পড়ুয়াদের।

শাহিনবাগের আন্দোলন তোলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। সুপ্রিম কোর্টও আন্দোলনের বিরোধিতা না করলেও পথ আটকে দিনের পর দিন বিক্ষোভের কড়া সমালোচনা করে। মানুষের অসুবিধা করে বিক্ষোভে স্বভাবতই সায় দেয়নি দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

জট কাটাতে দুই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করে শীর্ষ আদালত। প্রবীণ আইনজীবী সঞ্জয় হেগড়ে এবং সাধনা রামাচন্দ্রনকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের দায়িত্ব দেয় আদালত। বৃহস্পতিবার শাহিনবাগে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন ওই দুই মধ্যস্থতাকারী।

পথ আটকে আন্দোলনে এলাকাবাসীর চরম সমস্যার কথা তাঁরা জানান আন্দোলনকারীদের। শেষমেশ নয়ডা-ফরিদাবাদ রোডের সংযোগস্থল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা। ৬৯ দিনের মাথায় ফের চালু হয় গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তাটি।

গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শাহিনবাগে সিএএ বাতিলের দাবিতে চলছে একটানা আন্দোলন। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নেমে আন্দোলনকারীদের তোপ দেগে একের পর এক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতারা। এমনকী খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আন্দোলনকারীদের সমালোচনায় সরব হয়েছেন।

শাহিনবাগের আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক মদত আছে বলেও অভিযোগ করেন নরেন্দ্র মোদী। এরই পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের নিশানা করেছেন বিজেপির ছোট-বড় অনেক নেতা। যদিও শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের নিয়ে একের পর এক সেই মন্তব্যকে ঢাল করে বাড়তি অ্যাটভান্টেজ নেওয়া তো দূর অস্ত উলটে ভোটে শোচনীয় ফল হয়েছে বিজেপির। মাত্র ৮টি আসন পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে।