নয়াদিল্লি: করোনা অতি মহামারী দরিদ্রদের সবথেকে বেশি আঘাত করবে। তাদের স্বাভাবিক ছন্দের জীবনে প্রভাব এমনভাবে ফেলবে যে শিশু শ্রমিক, শিশু পাচার, বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা মাথা চাড়া দেবে। এমনটাই মনে করছেন নোবেলজয়ী কৈলাস সত্যার্থী।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই পরিস্থিতির ফলে কয়েক লক্ষ শিশু ফের দাসত্ব, শিশু শ্রমিক, শিশু পাচার এবং বাল্যবিবাহের জালে জড়িয়ে পড়বে । এ জন্য সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তিনি।

সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যেসব গলদ গুলি রয়েছে সেগুলির দিকে নজর দিতে হবে যাতে কোনও শিশু‌ অবহেলিত না থাকে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, একজন শিশুও যদি দাসত্বের বন্ধনে জড়িয়ে থাকে তাহলে তাঁর শান্তি নেই।

কয়েক দশক ধরে তিনি সমাজের দরিদ্র শ্রেণির জন্য কাজ করেছেন। মূলত ভারতের শিশু শ্রমিক শিশু পাচার বাল্যবিবাহ ইত্যাদি আটকাতে তার অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৪ সালে কৈলাস সত্যার্থী নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এবার কৈলাস মনে করছেন, করোনার সংকটের জেরে কাজ হারানো পরিবারগুলি ফের শুধুমাত্র গ্রাসাচ্ছাদনের চেষ্টায় সন্তানদের রোজকার করতে পাঠাবে। ফলে পরিস্থিতি এমনই স্কুলে পাঠনোর বদলে ওইসব শিশুদের কাজের জায়গায় পাঠানো হবে যাতে সেখান থেকে আয় হয়।আর এক রকম ভাবে ফাঁদে পা দিয়ে কন্যা সন্তানদের দেহ ব্যবসার দিকে ঠেলে দেওয়া কিংবা বাল্যকালেই বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাবে।

গত কয়েক বছরে শিশু শ্রমিক অনেকটাই কমে ছিল। তবে এখনও ভারতে এক কোটির উপর শিশু শ্রমিক রয়েছে বলে ইউনিসেফের হিসাব। দেশজুড়ে শিশু শ্রমিক পাওয়া যায় ইটখোলা, কার্পেট সেলাই, জামা কাপড় তৈরি এবং বাড়ির কাজে। প্রসঙ্গত এ মাসেই তার সংগঠন পুলিশের সাহায্য বেশ কয়েকজন বালিকাকে উদ্ধার করে চিংড়ি মাছের কারখানা থেকে।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।