সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ওদের নিয়ে এখনও অনেক কৌতূহল। এখনও শীতের সন্ধ্যাবেলা কিংবা বর্ষার রাতে জমিয়ে দেয় তেনাদের গপ্পো কথা। কিন্তু ওদের দুঃখ একটাই। ওদের অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডকারখানা নিয়ে কেউ আর লিখতে চায় না। হয়তো ওদের সমাজেও অনেক নতুন নতুন কিছু ঘটছে। কিন্তু সে খবর কেউ রাখছেই না। ফলে ব্যাপক চাহিদা থেকেও ভূত সমাজে তাঁদের প্রমোশনের ভরসা সেই পুরনো গল্পের বই। ভুতেদের এমন দুর্দিনের কথা জানাচ্ছে বাংলার তাবড় তাবড় প্রকাশনা সংস্থাগুলিই।

কোথায় গেল রক্ত পিশাচের মাঠের গল্প ? কোথায় বা গেল নিশির সেই ডাকের ভয়ংকর বর্ণনা ? এমন প্রশ্নই যেন ঘুরে বেড়াচ্ছে ভূত মহলে। কত রেভলিউশন ঘটে যাচ্ছে তেনাদের সমাজে। কারোর কি সেই খবর নিতে করছে না? উত্তর দিচ্ছে দেব সাহিত্য কুটীর। তাঁরা জানালেন, আরে বাচ্চারা ভুতের গল্প পড়তে চায়। ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু কেউ লিখলে তবে না। আমাদের উপায় নেই। যা পুরনো ভুতের গল্পের বই রয়েছে সেইগুলোই বইমেলায় নিয়ে। এসেছি। এতেই দিয়ে সামালানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।”

বেশী নয়, বছর দশেক আগেও চটি বই হিসাবেও অনেক ভুতের গল্প বেরত বইমেলায়। তাতে সাজানো থাকত শাঁকচুন্নি, মামদো, ব্রহ্মদত্যিদের গল্প। আজ সে সোনালি দিন গিয়েছে। ছোটরা ওদের নিয়ে চর্চা করে ভয় পেটে চাইছে। কিন্তু যেন প্রমোশনের অভাব, তাঁদের নতুন গল্প জানতেই পারছে না কচিকাচার দল। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় প্রচুর ভূতের গল্প লিখেছেন। অনেক বই নিজে হাতে সম্পাদনাও করেছেন।

মানবেন্দ্র পাল, গৌরি দে’র ভূতের গল্প একসময় জমিয়ে লিখেছেন ভূতের গল্প বই। দে’জ পাবলিকেশন এবং আনন্দের স্টল মালিকরাও স্পষ্ট জানাচ্ছেন , ‘সে দিন গিয়েছে এখন ছোটদের জন্য আর কেউ বই লিখতেই চায় না। সব লেখা শুধু বড়দের জন্য। টিন এজারদের জন্য প্রেম, পরকিয়া নিয়ে হাজারও গল্প লেখা হচ্ছে কিন্তু একটাও ভূতের গল্প লেখা হচ্ছে না।”

দেব সাহিত্য কুটিরে ভূতের গল্প বই খুঁজছিল ক্লাস সেভেনেরত ছাত্রী খুশি। কিনে নিয়ে গেল রক্তকালীর মাঠের গল্প, মানুষ থাকলে ভূতও আছে। যা সবই পুরনো প্রকাশনা। ৪৩তম বইমেলাতেও যা দেদার বিকোচ্ছে। কিন্তু তবু তেনাদের জন্য লেখার লোকের দেখা নেই।

ছবি মিতুল দাস