জয়পুর: এই ‘টয়লেট এক প্রেম কথার’ পরিণতি শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে গিয়েই ঠেকল৷

বাড়িতে শৌচালয় নেই৷ আর পাঁচ জন মহিলার মতোই খোলা মাঠে প্রাকৃতিক কাজ সারতে যেতে হত তাকে৷ স্বামীকে বারবার বাড়িতে শৌচালয় বানানোর তাগাদা দেওয়া সত্বেও কোন কর্ণপাত করেনি সে৷ অগত্যা স্বামীর থেকে বিচ্ছেদ চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন স্ত্রী৷ অবশেষে দু’বছর পর সেই মামলায় বিচ্ছেদ পেলেন স্ত্রী৷

ঘটনাটি রাজস্থানের আজমেরের৷ ২৪ বছরের এক বিবাহিতা তরুণী ২০১৫ সালে ভিলওয়ারার পারিবারিক আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে বিচ্ছেদের মামলা করেন৷ অভিযোগ, চার বছরের বিবাহিত জীবনে বহুবার বাড়িতে শৌচালয় বানানোর জন্য স্বামীকে অনুরোধ করেন তিনি৷ কিন্তু স্ত্রীর এই চাহিদাকে বাড়াবাড়ি বলে মনে হত স্বামীর৷

টাইমস অফ ইন্ডিয়াতে প্রকাশ, প্রাকৃতিক কাজ সারার জন্য স্ত্রীকে অন্ধকার হওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হত৷ বাড়িতে শৌচালয় না থাকায় খোলা জায়গাতেই স্নান করতে হত৷ যা তাঁর কাছে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাহানিকর মনে হত৷ অন্যদিকে শৌচালয় না বানানোর পিছনে স্বামীর যুক্তি ছিল গ্রামের আর পাঁচ জন মহিলা এই ভাবেই প্রাকৃতিক কাজ সারে৷ তাছাড়া বিয়ের আগে মেয়ের বাড়ি থেকে শৌচালয় বানানোর কোন দাবী করা হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত স্বামীর থেকে বিচ্ছেদ চেয়ে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন স্ত্রী৷ শুক্রবার বিচ্ছেদ অনুমোদন করে আদালত৷

মামলা প্রসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ সিগারেট, মদ বা মোবাইল ফোন কিনতে আমরা টাকা খরচ করতে পারি৷ কিন্তু পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে বাড়িতে শৌচালয় বানাতে পারি না৷ গ্রামে একজন মহিলাকে শৌচ কর্ম সারতে সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করতে হয়৷ যা শারিরীক নিষ্ঠুরতার পাশাপাশি একজন মহিলার পক্ষে যথেষ্ট সম্মানহানিকর৷

শৌচালয় না থাকার জন্য বিচ্ছেদের ঘটনা সম্ভবত এটিই প্রথম বলে মনে করা হচ্ছে৷