ফাইল ছবি৷

নয়াদিল্লি: নিখোঁজ বায়ুসেনা বিমানের সন্ধান মিললেও যাত্রীদের কোনও খোঁজ নেই৷ উদ্ধারকারী দল এমন কোনও সূত্র পায়নি যা থেকে বোঝা যায় ১৩ জন যাত্রী জীবিত আছে৷ শেষমেশ বৃহস্পতিবার বায়ুসেনার তরফে ঘোষণা, দূর্ঘটনায় বিমানের কেউ জীবিত নেই৷

গত মঙ্গলবার এমআই-১৭ চপার অরুণাচল প্রদেশের লিপো এলাকায় নিখোঁজ বায়ুসেনা বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়৷ তারপরেই বিমানের যাত্রীদের খোঁজ পাওয়ার আশা উজ্জ্বল হয়৷ কিন্তু সেখানেও হতাশা৷ মঙ্গল, বুধ তন্নতন্ন করে খুঁজেও যাত্রীদের কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ তারপর বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা বায়ুসেনার৷

গত ৩ জুন মাঝ আকাশেই নিখোঁজ হয়ে যায় বায়ুসেনার বিমানটি। অসমের জোরহাট থেকে অরুণাচল প্রদেশের মেচুকা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল এএন-৩২। কিন্তু বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। গত আটদিন ধরে চলছিল খোঁজ। দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হলেও, সেই চপার কোথায় গিয়ে পড়েছে, সেটাই বোঝা যাচ্ছিল না। এমনকি ইসরোর স্যাটেলাইট ব্যবহার করেও চলছিল খোঁজ।

অরুণাচলের সিয়াং জেলার পায়ুম সার্কেলের কাছে ওই এয়ারক্রাফটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। এয়ার ফোর্সের Mi-17 চপার থেকেই প্রথম পড়ে থাকা ওই অংশগুলি দেখা গিয়েছে। প্রথম থেকে খোঁজ চালাচ্ছিল সুখোই Su-30 ও C-130J বিমান। আর্মি, নেভি ও আইটিবিপি যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। রাতেও নাইট-টাইম সেন্সর ব্যবহার করে চলেছে সার্চ অপারেশন। খারাপ আবহাওয়া থাকা সত্বেও অনবরত চলছিল খোঁজ। ১৩জনের পরিবার আপেক্ষায় আর উৎকন্ঠায় রাত কাটাচ্ছিলেন। তামিলনাড়ু থেকে নিয়ে যাওয়া হয় Mi-17, P8i ও একটি ALH হেলিকপ্টার।

এএন-৩২ বিমানের এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত তিন বছর আগে আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার যাওয়ার পথে ২৯ জন যাত্রী নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল আরও একটি এএন-৩২ বিমান। যার খোঁজও আজও মেলেনি। ঠিক সেভাবে এবার চিন সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বায়ুসেনার এই অত্যাধুনিক বিমানটি।