স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাতের শহরে এক দল যুবকের হাতে হেনস্থা প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া৷ সরব বাংলার বিশিষ্টজনেরা৷ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রাতের শহরে মেয়েরা কতটা নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কবি মন্দাকান্তা সেন৷

মঙ্গলবার রাতে উবেরে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া তথা অভিনেত্রী উষসী সেনগুপ্ত। সেই সময় রবীন্দ্রসদনের কাছে একটি বাইক ধাক্কা মারে উবেরটিকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চড়াও হয় কয়েকজন যুবক। ওই যুবকের দল উবেরের ড্রাইভারকে নামিয়ে মারতে শুরু করে। উষসী ময়দান থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ওই এলাকা ভবানীপুর থানার আওতায় বলে পুলিশ অভিযোগ জমা নেয়নি৷ এই কারণে রাতের কলকাতায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী। তিনি রাতের শহরে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ উগড়ে দেন।

পড়ুন: শহরে অনুষ্ঠিত হল বিদ্বজনদের প্রতিবাদ সভা

ঘটনার জেরে রাতে কলকাতায় মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উসষীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কাড়া ভাষায় নিন্দা করা হয় নানা মহল থেকে। এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন কবি মন্দাক্রান্তা সেনও। রাতের কলকাতা কতটা নিরাপদ সে বিষয়েও আলোকপাত করে মন্দাক্রান্তা kolkata24x7-কে জানান, “এক সময় রাতের কলকাতা নিরাপদ ছিল। রাত ১১ টার সময় বাড়ি ফিরতে অসুবিধে হত না এবং কোনও ভয় ভিতিও ছিল না। আস্তে আস্তে রাতের কলকাতা অত্যন্ত নিরাপদহীন হয়ে পড়ল। সত্যি কথা বলতে, শুধু রাত নয় এখন যেন সারা দিনটাই নারীদের পক্ষে অনিরাপদ।”

মন্দাক্রান্তা আরও বলেন, “এই অবস্থায় নারীরা আক্রান্ত হতে পারে, বিপন্ন হতে পারে। রাত্রিবেলা সেই সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সাম্প্রতিক অতীতে এই ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে একটি মেয়ে আত্মনিমগ্নভাবে পথে হাঁটতে পারে না। সে একাকী কিছু চিন্তা করতে পারে না। তাঁর মস্তিষ্ক ভরে থাকে আতঙ্কে। সে ভাবে সে আক্রান্ত হল কিনা!”

সেই সঙ্গে কবি মন্দাক্রান্তা সেন চাণক্যর একটি কথার প্রসঙ্গ এনে বলেন, “আক্রান্ত হওয়ার নানা উপায় আছে। বিশেষ করে শরীরী আক্রমণ এবং যৌন আক্রমণ। এসবই এখন রাতের কলকাতাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। এটা খুব দুঃখের। সাম্প্রতিক অতীতে এমন ঘটনা আমরা দেখেছি এবং এটা ক্রমশ বাড়ছে। এটা খুবই উদবেকজনক বলে মনে হয়। চাণক্য একটা কথা বলেছিলেন– যে শাসকের রাজ্যে একাকী নারী রাত্রিবেলা নির্জন উদ্যানে যথেচ্ছ ভ্রমণ করতে পারে, সেই শাসকই সুশাসক। এই কথাটা এই প্রসঙ্গে আমি বলতে চাই।”