নয়াদিল্লি : সংকটে দেশের অর্থনীতি। করোনা ভাইরাসের জেরে থমকে রয়েছে উন্নয়নের চাকা। ইকনমিক টাইমসের রিপোর্ট বলছে এপ্রিল মাসে বেতন পাবেন না ১২ কোটি শ্রমিক। বিশেষত, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা কোনও বেতন পাবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। দেশ জুড়ে লকডাউনের ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রের অসংগঠিত শ্রমিকরা আপাতত কাজ হারা।

তাঁদের রোজগার বন্ধ মার্চ মাস থেকে। ফলে এপ্রিল মাস জুড়ে কাজ না হওয়ায়, তাঁরা বেতনও পাবেন বলেই ধারণা দিচ্ছে ওই রিপোর্ট। রিপোর্ট বলছে, শুধু বেতন না পাওয়াই নয়, কাজ হারাতে পারে অসংখ্য মানুষ। করোনার জেরে দ্বিতীয় দফার লকডাউনের শেষ কয়েকদিন বাকি। সূত্রের খবর, বাড়তে পারে লকডাউন। সেক্ষেত্রে কাজ না পাওয়ার ও কাজ হারানো মানুষের তালিকা ক্রমশই দীর্ঘ হবে।

রিপোর্ট অনুযায়ী এপ্রিলের ২৭ তারিখ পর্যন্ত কাজ হারিয়েছেন ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন বা ২-৩ কোটি মানুষ। এরা বেশিরভাগই অসংগঠিত শ্রমিক। রয়েছেন বেতনভোগী বহু কর্মীও। ট্র্যাভেল-ট্যুরিজম, হসপিটলিটি, শপিং মল, রেস্তোঁরা, নির্মাণশিল্পের মতো ক্ষেত্রগুলির ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। আর্থিক মন্দার জেরে আপাতত কর্মীদের বেতন বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই এদের বলে জানাচ্ছে ওই রিপোর্ট।

এছাড়াও রয়েছেন গাড়িশিল্প, ই-কমার্সের একাংশ, পোলট্রি, দুগ্ধশিল্পের একাধিক কর্মী, যাঁদের বেতনে প্রভাব পড়তে চলেছে করোনার। বেতন কাটা হতে পারে চুক্তিভিত্তিক কর্মী বা অস্থায়ী কর্মীদের। সেলস ও মার্কেটিং, ডেলিভারি বয়, বিভিন্ন গাড়ির চালকদের কাজ হারাবার আশঙ্কা রয়েছে। কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে অনলাইন কমার্স সংস্থাগুলি। গত দু-এক সপ্তাহে ছাঁটাই হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

এছাড়াও কাজ হারাচ্ছেন সুইগি, জোম্যাটোর মত ফুড ডেলিভারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। রিপোর্ট বলছে এদের ব্যবসার গ্রাফ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নিম্নমুখী। এর আগে, হোটেল সংস্থা ওয়ো জানায়, তাদের প্রত্যেক কর্মীর বেতনের ২৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। এছাড়াও বেশ কিছু কর্মীকে ৪ মাসের ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। তাদের দেওয়া সব রকম পরিষেবার মধ্যে কিছু থাকবে, বাকি দেওয়া হবে না।

৪ঠা মে থেকে এই ছুটি লাগু হতে চলেছে। এই কোম্পানিতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী রয়েছেন। ভ্রমণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায়, তাদের হোটেল ও হোমগুলি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে সুইগিও।

৫০০ থেকে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করতে পারে তারা, এমনই সূত্রের খবর। যে সব কর্মীকে অস্থায়ী, মূলত তাঁদেরই ছাঁটাই করা হবে বলে খবর।এছাড়াও প্রচুর ক্লাউড কিচেন বন্ধ করে দিচ্ছে এই সংস্থা বলে জানা গিয়েছে। সুইগি জানিয়েছে পরের মাস অর্থাৎ মে মাস থেকে ছাঁটাইয়ের কাজ শুরু করা হবে। অন্যদিকে, টিয়ার ১ ও টিয়ার ২ মিলিয়ে মোট ১০টি শহরের ক্লাউড কিচেন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব