স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: কনকনে শীতের রাত। বৃষ্টির মতো মাথার উপর টুপ টুপ করে ফোঁটা ফোঁটা শিশির পড়ছে। তার মধ্যেও একপ্রকার বাধ্য হয়েই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেটারনিটি ও চাইল্ড কেয়ার ইউনিটে ভরতি থাকা রোগীর আত্মীয়দের।

কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাজার থেকে ত্রিপল কিনে এনে মাথার উপর আচ্ছাদনের মতো কিছু একটা তৈরি করেছে৷ তবে অধিকাংশ রোগীর আত্মীয়দের ঠাঁই হয়েছে এই শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচেই। সরকারি উদ্যোগে রোগীর আত্মীয়দের থাকার জন্য কোনও শেড নেই বলেই অভিযোগ। এরফলে এই হাসপাতালে প্রিয়জনের চিকিৎসা করাতে এসে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অনেক রোগীর আত্মীয়রাই অভিযোগ করছেন।

দক্ষিণ বঙ্গে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এখন চিকিৎসাক্ষেত্রে অন্যতম ভরসার জায়গা। সরকারি উদ্যোগে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার টানে এখানে বাঁকুড়ার গণ্ডী ছাড়িয়ে পুরুলিয়া, বর্ধমানের একাংশ বা প্রতিবেশী রাজ্য গুলি থেকেও অনেক রোগী এখানে চিকিৎসার জন্য ছুটে আসেন। কিন্তু মেটারনিটি ও চাইল্ড কেয়ার ইউনিটে ভরতি থাকা রোগীদের আত্মীয় পরিজনদের জন্য কোন রাত্রিবাসের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ভীষণ সমস্যায় পড়ছেন। এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রশাসনের পাশাপাশি বাঁকুড়া পুরসভার সদর্থক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

যেখানে পুরসভার তরফে সরকারি টাকা খরচ করে চলতি আর্থিক বছরেই হাসপাতাল সৌন্দর্যায়নের কাজ করা হয়েছে। আর তার পাশেই হাসপাতালের মধ্যেই রাস্তার দু’পাশে খোলা আকাশের নিচে সার সার দিয়ে এই হিম শীতল ঠাণ্ডায় শুয়ে আছেন বা রাত জাগছেন রোগীর আত্মীয়রা। ওই টাকায় পুরসভা সৌন্দর্যায়নের কাজ না করে রোগীর আত্মীয়দের জন্য রাত্রিবাসের জন্য শেড তৈরির উদ্যোগ নিলে অনেক সাধারণ মানুষ উপকৃত হতেন বলে অনেকেই জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : ‘বিজেপি ছাড়া কেউ অযোধ্যায় রাম মন্দির গড়বে না’

বেশ কয়েক দিন আরও অনেকের সঙ্গে এই শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে হাসপাতাল চত্বরে রাত কাটানো পিন্টু বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘একে কনকনে ঠাণ্ডা। তবুও গত কয়েকদিন ধরে এভাবেই আমাদের কাটছে। রোগীকে ছেড়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। তাই নিজেদের উদ্যোগে পলিথিন টাঙ্গিয়েই থাকতে হচ্ছে।’

একই অভিজ্ঞতার কথা শোনান বিজয় সরেন, স্বপন বাউরীরাও। তারা বলেন, এখন এখানে ভরতি থাকা রোগীদের জন্য চিকিৎসা সহ অন্যান্য পরিষেবা সহ অনেক উন্নত হয়েছে। কিন্তু রোগীর সঙ্গে আসা আত্মীয়পরিজনদের জন্য থাকার কোনও ব্যবস্থা নেই। রাতবিরেতে কখন ওষুধ বা অন্য কোন কিছুর দরকার পড়তে পারে। তাই আমরা অন্য কোথাও রাতে থাকার কথা ভাবতে পারিনা। ফলে শীত, গ্রীষ্ম হোক বা বর্ষা হাসপাতালে ভরতি থাকা সব রোগীর আত্মীয়কে এভাবেই রাত কাটাতে হয় বলে তারা জানান। এই ঘটনা দিনের পর দিন, রাতের পর রাত চলতে থাকার কারণে অনেক সময় রোগীর সঙ্গে হাসপাতালে আসা তাদের আত্মীয়রা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে তাদের দাবি। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে রোগীর সঙ্গে আসা আত্মীয়দের জন্য রাত্রিবাসের শেড তৈরির দাবি জানান।

আরও পড়ুন : হিজাব খুলে পরীক্ষায় বসতে বলা হল জামিয়া মিলিয়ার ছাত্রীকে

এই বিষয়ে বাঁকুড়া জেলাশাসক ডাঃ উমাশঙ্কর এসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়দের থাকার জন্য সাত কোটি টাকা ব্যয়ে বড় একটি শেড তৈরি করা হবে। পিডব্লুডি-র তত্বাবধানে বিষয়টি টেণ্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। এছাড়াও মেটারনিটি ও চাইল্ড কেয়ার ইউনিটের সামনে যে ফাঁকা জায়গা রয়েছে, প্রয়োজনে সেখানেও একটি ছোট শেড তৈরি করা বলে তিনি জানান।