নয়াদিল্লি: বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধার লিংক করার বিষয় নিয়ে জল্পনা হয়েছে অনেক। শোনা গিয়েছে, ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গেও আধার কার্ড যুক্ত করতে হতে পারে। বুধবার সংসদে এবিষয়ে সাফ জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ।

সংসদে এদিন লিখিত জবাব দিতে গিয়ে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে আধার লিংক করার কোনও পরিকল্পনা সরকারের তিনি।

আরও বলেন, আধারের ডেট সম্পূর্ণ সুরক্ষাইত আছে ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিরাপত্তা পরীক্ষা করে দেখাও হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৬৯ এ ধারা অনুযায়ী, জনস্বার্থে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট ব্লক করার অধিকার রয়েছে সরকারের। ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি পেগেসাস স্পাইওয়্যার অ্যাটাক করে ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপে। এই সংক্রান্ত প্রশ্নও সংসদে রাখেন সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। রবিশঙ্কার প্রসাদ জানান, এই স্পাইওয়্যার ১২১ জন ভারতীয়ের ফোনে আ্যাটাক করেছে। এই ব্যাপারে হোয়াটসঅ্যাপের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। ভারতীয়দের ডেটা সংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্য সরকার একটা বিল আনতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদের দাবি, এটা মোটেই কড়া জবাব নয়। এটা হল সরকারের যুক্তিহীন সাফাই দেওয়া। কেউ কেউ বলেছেন, মোদী সরকার এখন পিঠ বাঁচাতে আইনের দোহাই দিচ্ছে। এদিকে, হোয়াটসঅ‌্যাপ-সহ সোশ‌্যাল মিডিয়ায় নজরদারি বিতর্ক নিয়ে আজ, বুধবার আলোচনা হবে সংসদে। বৈঠকে থাকবে সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটি। কমিটির মাথায় রয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। বৈঠকে সরকার পক্ষ বিরোধীদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা বা তদন্তকারী সংস্থা আইন মেনেই এই নজরদারির কাজটি করতে পারে। দেশ ও নাগরিকের নিরাপত্তার স্বার্থে নজরদারি করা হতে পারে হোয়াটসঅ‌্যাপ, ফেসবুক মেসেঞ্জার, টেলিগ্রাম মেসেঞ্জার, ভাইবার, গুগলের যাবতীয় চ‌্যাট, ফোন কল, মেসেজের উপর। আইন মোতাবেক, সুরক্ষার খাতিরে কোনও নির্দিষ্ট সরকারি এজেন্সি যে কোনও কম্পিউটারের যে-কোনও তথ্য মনিটর ও ডিক্রিপ্ট করতে পারে। তবে ইজরায়েলি তথ‌্যপ্রযুক্তি সংস্থা এনএসও থেকে পেগাস‌্যাস সফটওয়‌্যার কিনে সরকার এই কাজটি ভারতের সাইবার এজেন্সিগুলিকে দিয়ে করাচ্ছে কি না সে প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি মন্ত্রী।