লখনউ: ‘আপনি আমার ঠাকুমার কবরের উপরে বসে আছেন।’ নিজের গ্রামেই নিজেদের অবস্থান বোঝাতে এই কথাটিই বললেন সেলিম শাহ। তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর ঠাকুমার শোয়ার ঘরেই তাঁকে কবরস্থ করা হয়েছিল।

যে গ্রামের কথা বলা হচ্ছে সেটি উত্তরপ্রদেশের আগ্রার অদূরে অবস্থিত। আছনেরা ব্লকের চাহ পোখার এলাকার বসবাস করেন সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা। ইহলোকের মায়া ত্যাগ করার পরেই ওই গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিকূলতা শুরু হয়। কারণ এলাকায় নেই কোনও পৃথক কবরস্থান। শেষকৃত্যের জন্য নিজের ভিটেমাটির উপরেই ভরসা করতে হয় তাঁদের।

আরও পড়ুন- ২০২১ এর বিধানসভায় বিজেপিকে রুখতে সোশ্যাল মিডিয়াই ‘অস্ত্র’ তৃণমূলের

সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে এই সংবাদ। সেই প্রতিবেদন অনুসারে, নিজের খুদে সন্তানদের কবরের উপরেই নিত্যদিন রান্না করেন ওই গ্রামেরই এক মহিলা। গ্রামের বাসিন্দা রিঙ্কি বেগম জানিয়েছেন যে তাঁর বাড়ির পিছনের ছোট্ট জায়গাতেই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে কবস্থ করা হয়েছে। সেই তালিকায় তাঁর দশ বছরের ছোট ছেলেও রয়েছে। ফ্লু-তে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছিল।

ওই গ্রামেরই অপর বাসিন্দা গুড্ডির মুখে শোনা গিয়েছে কবরের করুন কাহিনী। তিনি বলেছেন, “আমাদের মতো গরিব মানুষদের মৃত্যুর সঙ্গে কোনও সম্মান দেখানো হয় না। সেই কারণেই কবরের জন্য আলাদা জায়গা নেই।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “বাড়ির মধ্যেই কবর দিতে হয়। আর বাড়িতে জায়গা কম থাকার কারণা নিত্যদিন ওই কবরের উপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। যেটা অত্যন্ত অসম্মানজনক।” মৃতদেহের সঙ্গেই দিন কাটাতে হচ্ছে বলে আক্ষেপ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মুনিম খান।

আরও পড়ুন- হার মেনে নিতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: বিস্ফোরক মুকুল

ওই গ্রামের প্র্য সকল পরিবারের অবস্থায় দরিদ্রসীমার নিচে। অনেকেই অন্যত্র গিয়ে চুক্তির ভিত্তিতে ঠিকা শ্রমিকের কাজ করেন। দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকায় একটি কবরস্থানের দাবি করা হলেও তা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে সেই দাবি অগ্রাহ্য হয়েই রয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটা ছোট জমি কবস্থানের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু তা একটা পুকুরের পাশে অবস্থিত হওয়ার কারণে অল্প দিনের মধ্যেই পুকুরের মধ্যে ঢুকে যায় সেই জমি। এখন সেই পুরো জমিটাই পুকুর হয়ে গিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান সুন্দর কুমার। যদিও জেলাশাসক বলেছেন, “শীঘ্রই ওই এলাকায় প্রতিনিধিদল পাঠান হবে। তারপরে বিবেচনা করে কবরস্থানের জন্য জমি বরাদ্দ করার বিষয়টি দেখা হবে।”