নয়াদিল্লিঃ  গত একবছর আগে ঠিক এই দিনে সীমান্ত পেরিয়ে পুলওয়ামা হামলার বদলা নিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। বালাকোটে একের পর এক জঙ্গি ঘাটি গুড়িয়ে দিয়ে এসেছে বায়ুসেনা। ঠিক এক বছর পর সেই ঘটনারই স্মৃতি রোমন্থন করলেন তৎকালীন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অবসরপ্রাপ্ত) বি এস ধানোয়া।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ধানোয়া বলেন, বালাকোটের জঙ্গি লঞ্চপ্যাডে যখন আকাশপথে হানা দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা, তখন তার ত্রিসীমানায় কোনও পাক যুদ্ধবিমান ছিল না। এমনকি পাকিস্তান বুঝতেই পারেনি যে কখন সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে ভারতীয় যুদ্ধবিমান জঙ্গি ঘাটি ধ্বংস করে বেরিয়ে গিয়েছে।

পুলওয়ামা ঘটনার পর থেকেই গোটা দেশ প্রতিশোধের আগুনে ফুঁসছিল। একটাই দাবি ছিল, কড়া ভাষায় আক্রমণ! এরপরেই ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরিয়ে আকাশপথে হানা দিয়ে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোট সেক্টরে থাকা জঙ্গি লঞ্চপ্যাডে বোমাবর্ষণ করে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান। ওই এয়ার-স্ট্রাইকের পর ঘটনার কথা প্রকাশ করে মোদী সরকার। সেই সময় বায়ুসেনা প্রধান ছিলেন ধানোয়া।

ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ধানোয়া বলেন, ভারতীয় যুদ্ধবিমানের ১৫০ কিলোমিটারের ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও পাক যুদ্ধবিমান ছিল না। তিনি বলেন, সরকার যে তথ্য সামনে এনেছে, তাতে এটা নিশ্চিত যে অভিযান পুরোপুরি সফল ছিল। যদিও বারবার পাকিস্তানের তরফে বলা হয় যে, যুদ্ধবিমান সীমান্ত পের হলেও কোনও ক্ষতি করতে পারেনি। এমনকি কোনও জঙ্গি ঘাটি নয়, বরং জঙ্গলের মধ্যেই বায়ুসেনা বোমা ফেলেছে বলে দাবি করা হয়। যদিও এই দাবি বারবার উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতের তরফে। পালটা জবাব দেওয়া হয় যে, প্রমাণ রয়েছে জঙ্গিঘাটি ধ্বংসের। শুধু এদিনও পাকিস্তানের এহেন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন তৎকালীন বায়ুসেনা প্রধান।

তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান জানত না আমরা কোথায় অভিযান চালিয়েছি, কোন অস্ত্র, তার ক্ষমতা ও কার্যকারিতা, প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। এসব না জেনে, ওরা বলছে কি করে? একই সঙ্গে প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান জানিয়েছেন, ভওয়ালপুরে জয়েশ-ই-মহম্মদের যে সদর দফতর সে কথা যে কেউ জানে না, এটা কখনই পাকিস্তান অস্বীকার করতে পারবে না। তাঁর দাবি পাকিস্তান ভারতকে রুখতে তৈরি ছিল। কিন্তু বুঝতে পারেনি যে লঞ্চপ্যাডগুলি এভাবে ধ্বংস করা হবে।

তাঁর মতে, উরির পর আমরা প্রত্যাঘাত করেছিলাম। ফলে, পাকিস্তান জানতই যে, আমরা এবারও প্রত্যাঘাত করব। কিন্তু, কীভাবে করব, তারা তা কল্পনা করেনি। তিনি বলেন, আমরা তিনটি বাড়িতে বোমাবর্ষণ করেছি। বায়ুসেনার কাছে একেবারে নিরিষ্ট তথ্য ছিল, কোথায়, কোন বাড়িতে কতজন লোক রয়েছে। এমনকি শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের অবস্থান সেই সময় কি ছিল সেই তথ্যও বায়ুসেনার কাছে ছিল বলে দাবি ধানোয়ার। আর সব দেখে যে অস্ত্র ব্যভার করা হয়েছিল সেদিন তাতে কারোর বেচে থাকা সম্ভব নয় বলে চাঞ্চল্যকর দাবি প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধানের।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ