কলকাতা: নেতজীর অন্তর্ধান নিয়ে আজও নানা কথা শোনা যায়। তা এখনও একটা রহস্য। তাই নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর সঙ্গে কি ঘটেছিল তা জানার অধিকার মানুষের আছে। এমনটাই মনে করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানা যায় আজই তাঁর অন্তর্ধান হয়েছিল। আবার কোথাও জানা যায়, ১৯৪৫ সালে মিতসুবিসি কি-২১ হেভি বম্বার প্লেনে ওঠার পর তাইওয়ানের তাইপেইতে বিমানটি ভেঙে পরে। ১৯৪৫ সালের ২০ শে অগাস্ট নেতাজীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

রবিবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজস্ব ট্যুইটার হ্যাণ্ডেলে লিখেছেন, “১৯৪৫ সালের আজকের দিনে নেতাজী তাইহকু বিমানবন্দর থেকে একটি বিমানে তাইওয়ান যাবার পথেই সারাজীবনের মতন হারিয়ে যান। আমরা এখনও জানি না তাঁর সঙ্গে কি ঘটেছিল। ভারতের মাটিতে এই বীর পুরুষের সম্পর্কে জানার অধিকার মানুষের আছে।”

২০১৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সরকার নেতাজী সংক্রান্ত ৬৪টি ফাইল প্রকাশ্যে এনেছে যা রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের অধিনস্থ ছিল। তবে গবেষক ও লেখক অনুজ ধর দাবী করেছেন, মেজর-জেনারেল সাবুরো ইসোদা সহ জাপানিস অফিসাররা যারা হিকারি কিকান অর্থাৎ আজাদ হিন্দ সরকারের সঙ্গে জাপানএর তরফে যারা যোগাযোগ রেখেছিল তাঁদের মধ্যে নেতাজীকে সোভিয়েত রাশিয়াতে কিভাবে পাঠানো যায় তাঁর আলোচনা হয়েছিল। সূত্রের খবর অনুযায়ী ঠিক তার পরের দিন বিমান ভেঙে দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যু হয়।

অনুজ ধর ট্যুইট করে বলেছেন, “এটা কি তাহলে তাঁর লুকিয়ে যাওয়ার পেছনে শুধুই ধোঁয়ার আবরণ।” তিনি আরও বলেন, যখন জাপানিসরা দাবি করেছেন যে নেতাজী টোকিও যাবার পথেই মারা গেছেন ঠিক সেই সময় ব্রিটিশ অফিসাররা বিশ্বাস তিনি আসলে সেই সময় রাশিয়া যাচ্ছিলেন। এই প্রসঙ্গে অনুজ ধর ট্যুইটে লিখেছেন, “একমাত্র দেশ যে দ্বিতীয় বিস্বযুদ্ধের পর তাঁকে আশ্রয় দিতে পারত।”

এত কিছুর পর ১২২ বছর বয়সেও অনেক মানুষের মাঝে জীবিত রয়েছেন সুভাষচন্দ্র বসু। ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্টে কি সত্যিই মৃত্যু হয়েছিল পরাধীন ভারতের প্রথম আজাদ নেতার। তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও তুঙ্গে। এমন আবেগতাড়িত কল্পনাকেও প্রশ্রয় দিতে চায় না বাঙালি-সহ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। শুধু সত্যিটা জানতে চান তাঁরা।