নয়াদিল্লি: নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের নাম প্রকাশ্যে আনা যাবে না। একইসঙ্গে যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন, তাঁদেরও পরিচয় প্রকাশ্যে আনা যাবে না বলে স্পষ্টভাবে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই এব্যাপারে একটি অ্যাডভাইজরি প্রকাশ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।

এক করোনা আক্রান্তের নাম প্রকাশ্যে এনেছিল ওড়িশা সরকার। নবীন পট্টনায়েক প্রশাসন জানিয়েছিল, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। তাই গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কায় তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। এর আগেও একাধিক ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্তের নাম ও পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অভিযোগ পেয়েই যথোপযুক্ত পদক্ষেপও করা হয়েছিল।

ওড়িশা ছাড়াও দেশের একাধিক রাজ্যে আগে থেকেই এই প্রবণতা চোখে পড়ে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গেও প্রথম করোনা আক্রান্তের নাম ও তাঁর পরিচয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়। এমনকী আক্রান্তের বাবা-মা তাঁদের পরিচয়ও ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

সোশাল সাইটে এরপর আক্রান্ত ও তাঁর পরিবার নিয়ে নানা কটূক্তি ভেসে বেড়ায়। করোনা আক্রান্তের নাম ও পরিচয় প্রকাশ্যে এলে তাঁর হেনস্থা হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় বলে মনে করে কেন্দ্রীয় সরকার।

সেই কারণেই আক্রান্ত ও তাঁর পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবেই সম্প্রতি একটি অ্যাডভাইজরি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ওই অ্যাডভাইজরিতে জানানো হয়েছে, করোনা আক্রান্তের নাম-পরিচয় গোপন রাখতে হবে। একইসঙ্গে যাঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে তাঁদের পরিচয়ও প্রকাশ্যে আনতে পারবে না কোনও রাজ্য সরকার।

গোটা দেশে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। এখনও পর্যন্ত দেশে নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭৩৪। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যে তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪৭ জন। মোট আক্রান্ত ৫৭৩৪ জনের মধ্যে বর্তমানে ৪৭৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দেশে করোনায় মোট মৃত্যু বেড়ে ১৬৬।

তবে দেশে এখনও গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়নি বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন। ‘হু’ এর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার প্রধান আধিকারিক পুনম ক্ষেত্রপাল সিং জানিয়েছেন, যখন সংক্রমণের উৎস খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন সেই দেশে সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলা যেতে পারে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে বর্তমানে যে সমস্ত সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তার উৎস সন্ধান করা সম্ভব হচ্ছে। তাই ভারতে যে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে, একথা এখনই বলা যাচ্ছে না।