নয়াদিল্লি: অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই অভিযোগের জবাব দিলেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷ বুধবারই ট্যুইট করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন ৩০শে মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকছেন না তিনি৷

তার কারণ হিসেবে মমতা জানিয়ে ছিলেন পুরুলিয়াতে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা যাবেন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে। এই ইস্যুকে বিজেপি রাজ্যে রাজনৈতিক খুনের শিকার বলে ব্যাখ্যা করেছে৷ আর বিজেপি দাবিকেই সমর্থন করছেন না মমতা৷ তাঁর মতে রাজ্যে কোথাও কোনও বিজেপি কর্মীকে রাজনৈতিক খুনের শিকার হতে হয়নি৷

মমতার এই অভিযোগের এদিন জবাব দিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়৷ তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সাংবিধানিক বিষয়৷ তাকে রাজনীতিকরণ করার চেষ্টা চলছে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লজ্জা পাচ্ছেন আসতে৷ তাই এখন নানা বাহানা দিচ্ছেন বলে মত বিজয়বর্গীয়র৷

আরও পড়ুন : মালদহে কর্মীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করতে চান মৌসম

বুধবার নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে মমতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন ‘এই শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান গণতন্ত্র উদযাপনের অনুষ্ঠান, এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের তাকে মূল্যহীন করা উচিত নয়৷’

বৃহস্পতিবার ৩০ মে সন্ধ্যায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান মোদীর। যেখানে দেশ-বিদেশের সমস্ত তাবড় তাবড় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আর সেই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছিল৷

গতকাল সন্ধ্যায় নবান্ন ছাড়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘‘আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ মাঝে আর এক দিন রয়েছে হাতে৷ তবে প্রধানমন্ত্রীর শপথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ এটা যেহেতু সাংবিধানিক সৌজন্য তাই এই সিদ্ধান্ত৷’’ মোদীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই অন্যসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে নবান্নে জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু ২৪ ঘন্টাও কাটেনি, তারইমধ্যে সিদ্ধান্ত বদল করেন মুখ্যমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন : দ্বিতীয় মোদী সরকারে অর্থমন্ত্রী হতে পারেন অমিত শাহ

উল্লেখ্য, গতকালই জানা যায়, পুরুলিয়াও নিহত বিজেপি কর্মী, দুলাল কুমার, ত্রিলোচন মাহাতো, শিশুপালসহ অনেকের পরিবার বৃহস্পতিবার উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে৷

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় দলিত যুবক ত্রিলোচন মাহাতোর দেহ পাওয়া যায়। ওই দেহে সাটা ছিল পোস্টার। পোস্টারে লেখা ছিল, বিজেপি পার্টি করার জন্যই ত্রিলোচনকে মরতে হয়েছে। দুলাল কুমারের দেহ একটি বিদ্যুতের হাইটেনশন পোলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ত্রিলোচন ও দুলালের মৃত্যুর ঘটনা পঞ্চায়েত নির্বাচনটি আগেই ঘটেছিল। পুরুলিয়াতে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মীর ছেলে শিশুপালের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায়। বিজেপি ঘটনাটিকে খুন বলে দাবি করে। তাকেই নাকচ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷