নয়াদিল্লি: এনপিআর বা ন্যশনাল পপুলেশন রেজিস্টারের প্রক্রিয়ায় সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবারই সেই সম্মতি দেয় কেন্দ্র। এরপরই এই এনপিআরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে এর জন্য কোনও কাগজপত্রের দরকার নেই।

এই প্রক্রিয়ার জন্য ৩,৯৪১ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। তিন স্পষ্ট বলেন, ‘এনপিআর ও এনআরসি-র মধ্যে কোনও যোগ নেই।’ উল্লেখ্য, এনপিআরেই নাগরিকপঞ্জীর পথ সুগম হবে, এমন আশঙ্কায় বিরোধিতা করেছেন।

এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনও বায়োমেট্রিক থাকবে না, লাগবে না কোনও কাগজ। কোনও প্রমাণপত্রেরও প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এটা কোনও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া নয়। একটা মোবাইল অ্যাপ থাকবে, যাতে বাসিন্দারা তাঁদের ডিটেল আপলোড করে দিতে পারবেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ হওয়ার পরই এই আইনের পাশাপাশি এনআরসি ও এনপিআরের বিরোধিতা করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে এনপিআরে কেন্দ্রের সম্মতি।

সেন্সাস কমিশন জানিয়েছে, নাগরিকদের পরিচিতির একটি ডেটাবেস তৈরি করার জন্যই এই এনপিআর। দেশের যে কোনও নাগরিই এর আওতায় পড়বে। যে ব্যক্তি তাঁর এলাকায় ছ’মাস ধরে বসবাস করছে এবং আগামী ৬ মাস ধরে বসবাস করবে, সেই ব্যক্তিকে ওই এলাকায় রেজিস্টার করতে হবে। এতে ওই ব্যক্তির বায়োমেট্রিক ডিটেল থাকবে।

সেন্সাসের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এই এনপিআর। বিভিন্ন মহলের দাবি, এই এনপিআর নাকি আসলে এনআরসি-রই প্রথম ধাপ। তাই এনপিআর নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ও কেরল এনপিআরের পদ্ধতি স্থগিত রেখেছে।

আগামী বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হবে এই এনপিআর। অসম বাদে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এনপিআর হবে। এর মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।