চেন্নাই: মুসলিম বিরোধী বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রেফতার চেন্নাইয়ের এক বেকারি মালিক। তাঁর বেকারিতে কাজ করার জন্য কোনও মুসলিম প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। বা তিনি কোনও মুসলিমকে কর্মী হিসেবে নিয়োগ করবেন না, এই মর্মে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তিনি।

চেন্নাইয়ের টি নগর নামের ওই বেকারি মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জৈনস বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারিস নামের ওই দোকানটির জন্য অদ্ভুত বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন নগর। বিজ্ঞাপনটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। তারপরেই জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গ্রেফতার করে ওই ব্যক্তিকে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে নেটিজেনরাও। সমাজে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

এর আগে, করোনা ভাইরাস টেস্ট ছাড়া হাসপাতালে ঢুকতে পারবেন না কোনও মুসলিম। এমনই নিদান জারি করেছিল উত্তরপ্রদেশের মেরঠের এক ক্যান্সার হাসপাতাল। এই মর্মে একটি বিজ্ঞাপনও দেয় তাঁরা। তাতে বলা হয়েছিল কোনও মুসলিম রোগি ভর্তি হতে এলে, তাঁর করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করাতে হবে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষা করাতে হবে তাঁর পরিবারের লোকজনকেও। টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এলে তবেই তাঁকে ভরতি নেওয়া হবে।

স্থানীয় এক সংবাদপত্রে এই বিজ্ঞাপন বেরোনোর পরেই জলঘোলা শুরু হয়। শুরু হয় চরম বিতর্ক। এই বিজ্ঞাপন ছাড়েনি হিন্দু ও জৈনদেরও। তাদের ‘কৃপণ বড়লোক’ বলে দাবি করে দোষারোপ করা হয়েছে। এরই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে অনুদান দেওয়ারও দাবি করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের তরফে ভর্তির সময় অনুদান দাবি করা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি।

হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। পরে ওই বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাফাই দিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এজন্য দ্বিতীয় একটি বিজ্ঞাপনও বের করা হয় সংবাদপত্রটিতে। তবে লাভ হয়নি। হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জাতি বিদ্বেষ ও অন্যের ধর্মের ভাবাবেগকে আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প