স্টাফ রিপোর্টার, রামনগর: ‘বাংলায় আর নয় দরকার, চাল চোর সরকার।’ এবার শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে গিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে বাংলা থেকে উৎখাতের ডাক বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা এরাজ্যে দলের পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়ের।

পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের সভা থেকে বিজয়বর্গীয় বলেন, “আমাদের দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগরিকত্ব আইন বানিয়েছেন। এর ফলে যে সমস্ত হিন্দু পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, আফগানিস্তান থেকে যারা বিতাড়িত হয়েছেন তাঁদেরকে আমাদের দেশের ভিতর নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ ভারতীয় জনতা পার্টি করবে। আমরা নাগরিকত্ব আইন লাগু করবোই এবং সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।”

এদিন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বুঝতে পারছেন তিনি তাঁর আত্মবিশ্বাস শেষ করে ফেলেছেন। আপনার পুরো তৃণমূল পার্টি পিকের হাতে এখন। এখন তৃণমূল পার্টি মমতার নয়। আজ তৃণমূলে মুকুলদা নেই। তৃণমূল আজ শুভেন্দু অধিকারীরও নেই। উনিও টাটা করছেন। কোনও সৎ ব্যক্তি এখন তৃণমূলে নেই। তৃণমূল এখন ভাইপোর কাছে চলে গিয়েছে।”

এরই পাশাপাশি তিনি দেশের সেনা-জওয়ানদের সম্মান জানিয়ে বলেন, “আজ আমরা এখানে সুরক্ষিত। কারণ আমাদের দেশের জওয়ান তার পরিবার, স্ত্রী- সন্তান ছেড়ে দেশের সীমানায় দাঁড়িয়ে আছেন বলে। শত্রুদের কাছে বুক পেতে দাঁড়িয়ে আছে বলে। তাঁদের কাছে আমাদের আওয়াজ পৌঁছানো দরকার। তাদের বিশ্বাস দেওয়া দরকার যে নরেন্দ্র মোদির ভারত, মোদিজীর জনতা পুরো সৈনিকদের পাশে আছে।”

এছাড়াও তিনি পশ্চিমবঙ্গের কথা উল্লেখ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ একটি সীমান্তবর্তী প্রদেশ। এখানে আতঙ্কবাদী চলছে। তাই চার মাস পর বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার বানান এবং আতঙ্ক থেকে বাঁচতে সাহায্য করুন। একটি সোনার বাংলা বানাতে সাহায্য করুন। হিংসার রাজনীতি সমাপ্ত করতে হবে। হত্যাকারী সরকারকে হঠাতে হবে। চাল চোর সরকারকে হঠাতে হবে।”

তিনি কটাক্ষ করে আরোও বলেন, “এই বাংলার মাটিতে বাংলাদেশের দুষ্কৃতকারীদের আগমন ঘটছে। বাংলার মাটি আজ সুরক্ষিত নেই। মা আর সুরক্ষিত নেই, মাটিও সুরক্ষিত নেই। পশ্চিমবাংলায় আপনারা কংগ্রেসের সরকার দেখেছেন। আপনারা সিপিএমের সরকারও দেখেছেন।’’

‘‘সিপিএমের সরকারের সময়েও হত্যা হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। এরপর আপনারা সোনার বাংলা গড়ার আশায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসনে বসিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একবার নয় দুবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আশীর্বাদ করেছেন। যেখানে মায়ের সুরক্ষা নেই, বোনের সুরক্ষা নেই, সেখানে সেই রাজ্যের একজন মহিলার মুখ্যমন্ত্রী থাকার কোনও অধিকার নেই।”

তিনি আমফান দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাংলায় যখন আমফান হয়েছিল তখন প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে হেলিকপ্টারে ঘুরে দেখেছিলেন। তিনি ১০০ কোটি টাকা সাহায্য দিয়েছিলেন। সেই টাকা কোথায় গিয়েছে পিসি বলতে পারবে না। এই চালচোর সরকার সকলের পয়সা খেয়ে নিচ্ছে। গরিবের পয়সাও খেয়ে নিচ্ছে। এই সরকার আর রাখার দরকার নেই এবার বোঝা যাচ্ছে।”

এদিনের এই সভায় কৈলাস বিজয়বর্গীয় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সহ পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য বিজেপির সম্পাদক সব্যসাচী দত্ত সহ অন্যান্যরা।

শুধু তাই নয়, এদিনের এই সভা থেকে প্রায় ৩০০ জনের বেশি বিভিন্ন দল থেকে বিজেপিতে যোগদান করেন। একুশের নির্বাচনের আগে খোদ শুভেন্দু গড় থেকে এই যোগদান তৃণমূলের এক বড়োসড়ো ভাঙ্গন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।