দেবময় ঘোষ, কলকাতা: বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ৷ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বছর খানেক আগে বলেছিলেন, ‘‘ইদে রাস্তায় নমাজ পড়া আটকাতে পারি না৷ তাহলে কোন অধিকারে থানায় জন্মাষ্টমী পালন আটকাবো?’’কিছুদিন আগে হরিয়ানায় আওয়াজ উঠেছিল, রাস্তায় আর নমাজ নয়৷ হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারের অভিমত ছিল, নমাজ পাঠের জায়গা মসজিদ কিংবা ইদগাহ৷ জায়গা কম পড়লে বাড়িতেও নামাজ পড়া যেতে পারে৷ সেখান থেকেই আবার নতুন বিতর্কের শুরু৷

প্রতিবাদীরা বলেছিলেন, হরিয়ানার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যেই পরিস্কার রাজ্য প্রশাসনে মাথা গলাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস৷ সঙ্ঘের মদতেই মুখ্যমন্ত্রী এমন বিদ্বেষমূলক কথা বলছেন৷ বিয়ে, পুজো, রামলীলা রাস্তায় প্যান্ডেল বানিয়ে দিনের পর দিন চলতে পারে, ইদের নমাজেই যত বিশৃঙ্খলা খুঁজে পেয়েছে সরকার৷ উলটো দিকে, মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থনকারীদের বক্তব্য, ওয়াকফ সম্পত্তির পরিমাণ সারা দেশে রেল ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ঠিক পরেই৷ তা স্বত্ত্বেও মুসলমানদের নমাজ পড়ার জায়গা নেই!

কলকাতার রাস্তাতেও নামাজ পাঠের বিরোধীতা করেছে আরএসএস৷ তবে তারা এও মানছে, হরিয়ানায় সঙ্ঘকে ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছিল৷ পশ্চিমবঙ্গে সঙ্ঘের এক মুখপাত্রের কথায়, ‘‘প্রকৃত ধর্মাবলম্বীরা রাস্তা আটকে মানুষের অসুবিধা করতে চান না৷ রাস্তায় নমাজপাঠ করে জনজীবন ব্যাহত করতে তাঁরা চান না৷ মাত্র কিছু মানুষই রাস্তায় নমাজ পাঠ করেন৷ আর, ইসলাম ধর্মেই রয়েছে কাউকে অসুবিধা করে নমাজ পড়তে নেই৷’’

সঙ্ঘের অন্য এক সদস্যের বক্তব্য, ‘‘মনে করুন হিন্দুরা প্রতি বহস্পতিবার রাস্তায় প্রার্থনা করতে বসতে শুরু করল৷ তারপর চিন্তা করুন কি হয়৷ শহর কী আর নিজের অবস্থায় থাকবে? সমস্যা কোন পর্যায়ে পৌঁছাবে তাও চিন্তা করুন৷ বছরে দু-একবার ইদের সময় রাস্তা বসে নমাজ পড়া অসুবিধাজনক নয়৷ কিন্তু দিনের পর দিন তা চলতে পারে না৷’’

দক্ষিণবঙ্গের এক আরএসএস মুখপাত্র নিজের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে বলেন, ‘‘কিছুদিন আগেই সল্টলেকে একটি সরকারি অফিস চত্ত্বরে পথ আটকে নমাজ পাঠ চলল৷ যারা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এসেছিলেন, তাঁরা দাঁড়িয়ে রইলেন৷ পৃথিবীর কোন উন্নত ইসলামিক রাষ্ট্রে এই কাণ্ড ঘটে কী?’’ অন্য এক সঙ্ঘ সদস্যের কথায়, ‘‘অনেক জায়গায় সঙ্ঘকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে৷ কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মাচরণের বিরুদ্ধে নই আমরা৷ কিন্তু রাস্তায় প্রতিদিন নমাজের সময় পথচারিদের অসুবিধা এবং নমাজের আগে ও পরে উৎশৃঙ্খলতাকে সমালোচনা করছি৷ ট্রেন থামিয়ে নমাজ পড়া, নমাজের আগে রেল স্টেশনে পানীয় জলের কলের নিচে পা ধোওয়া উৎশৃঙ্খলতারই নামান্তর৷’’

জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ ঘায়োরুল হাসান যেমন মনে করেন, বিতর্কের বিষয় নমাজ নয়৷ কিন্তু কোথায় নামাজ পড়া হবে, তাই হল বিতর্কের বিষয়৷ সরকারি জমিতে নমাজ পড়া নিয়ে বিতর্ক চলছে৷ বাঙালী মুসলমান জনতা, ইমামরা অবশ্য প্রশ্ন করেছেন, সরকার নামাজ পড়ার জায়গা ঠিক করে দিতে পারছে না কেন? জায়গার অভাবেই রাস্তায় নমাজ পড়তে হয়৷ বিষয়টিকে সমস্যা বানাচ্ছে সঙ্ঘ৷