নয়াদিল্লি :মোরাটোরিয়ামের সময়ে যখন ঋণের কিস্তি দেওয়া হচ্ছে না তখন সেই অদেয় কিস্তির সুদের উপর সুদ চাপানো উচিত নয় বলেই মনে করছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই বিষয়ে এক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলার সময়ে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক সহায়তা দিতে ছ’মাসের জন্য ঋণের কিস্তিতে মোরাটোরিয়াম দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে কিস্তিতে সুদের উপর সুদ যোগ বাঞ্ছনীয় নয়। আর সেটা করা হলে, এমন সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যটাই ব্যর্থ হবে। এজন্য ব্যাংকের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ করা দরকার বলেও জানায় সুপ্রিম কোর্ট।

প্রসঙ্গত,রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশ‌ দিয়েছিল, করোনা পরিস্থিতিতে চাইলে প্রথমে তিন মাস (মার্চ – মে) পরে তা বাড়িয়ে ছ’মাসের (মার্চ-অগস্ট) জন্য ‌ ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধের কিস্তির টাকা না-ও দিতে পারেন । সে ক্ষেত্রে যে ক’মাস কিস্তি দেওয়া স্থগিত থাকবে, পরবর্তী সময়ে তত দিনের কিস্তির টাকা তো দিতে হবেই তাছাড়া ওই ক’মাসের সুদের উপরেও সুদ গুনতে হবে।

এরফলে গ্রাহকদের সুবিধা দেওয়ার নাম করে ঘাড়ে বাড়তি বোঝা চাপছে বলে অভিযোগ ওঠে। আর বোঝা বাড়ার ভয় অনেকেই এই মোরাটোরিয়ামের সুযোগ শেষমেষ নেননি। আরবিআই-র এমন নির্দেশের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন আগরার গজেন্দ্র শর্মা। কারণ ওই ব্যক্তির দাবি ছিল, এই সময়ে পুরো সুদই মকুব করে দেওয়া হোক। যদিও সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে পুরো সুদ ছাড় নয় বরং সুদের উপরে সুদ নিয়ে মতামত জানাতে বলে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাংককে।

বুধবার রিজার্ভ ব্যাংক ও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাটির সওয়ালে দাবি করেন, ব্যাংকগুলিতে প্রায় ১৩৩ লক্ষ কোটি টাকার আমানত আছে। যাদের সুদ দিতে হয়। এখন যদি মোরাটোরিয়ামের সময়ে ঋণে পুরো সুদ মকুব করা হয় তাহলে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা করা যাবে না। ব্যাংকিং শিল্পও ভেঙে পড়ার মত দশা হবে।

তাছাড়া মামলার শুনানি তিন মাসের জন্য পিছোনোর আর্জি জানায় স্টেট ব্যাংক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সংগঠন আইবিএ। সুপ্রিম কোর্ট অগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শুনানির সময় দিয়েছে। পাশাপাশি আইবিএ-কে কিস্তি স্থগিত নিয়ে নয়া নির্দেশিকা দেওয়া যায় কি না, বিবেচনা করে দেখতে বলেছে।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।