লন্ডন : দীর্ঘ কয়েক দশকের বন্ধুত্বের শেষ। এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত নিল সৌদি আরব। নতুন করে কোনও ঋণ পাকিস্তানেকে আর দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সৌদি। এরই সঙ্গে তেল সরবরাহও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েচে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে। ফলে রীতিমত বিপাকে পড়েছে ইসলামাবাদ।

সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটারের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।এই সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে পুরোনো চুক্তিও বাতিল করতে চাইছে সৌদি আরব। এজন্য পাকিস্তানকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে হতে পারে।

কারণ ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ঘোষিত ৬.২ বিলিয়নের চুক্তির মধ্যে এই টাকা বাকি রয়েছে। এই অর্থের ৩ বিলিয়ন ঋণ হিসেবে দেওয়ার ও ৩.২ বিলিয়নের তেল সরবরাহের কথা ছিল সৌদি আরবের। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তান সফরে আসেন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন। তখনই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তবে বিতর্ক বাঁধে অন্য জায়গায়। কাশ্মীর ইস্যু প্রসঙ্গে সৌদি আরবকে কার্যত হুমকি দেয় পাকিস্তান। ভারতের বিরুদ্ধে এক জোট হতে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন বা ওআইসি-কে আবেদন জানায় পাকিস্তান। তবে বলাই বাহুল্য ওআইসি এই প্রস্তাবে রাজী হয়নি।

এরপর পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি সৌদি আরবকে সতর্ক করে বলেন যদি সৌদি এই প্রস্তাবে রাজি না হয়, তবে ওআইসির আলাদা বৈঠক ডাকবে পাকিস্তান ও পাক বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে দল গঠন করা হবে। এই সতর্কতায় বেশ ক্ষুব্ধ সৌদি আরব কুয়ালালামপুর সামিট থেকে বাদ দেয় পাকিস্তানকে।

স্বাভাবিকভাবেই ওআইসি সদস্য দেশগুলির পক্ষ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও সমর্থন পায়নি পাকিস্তান। কার্যত ওআইসি প্ল্যাটফর্মে এখন একঘরে ইসলামাবাদ।

এদিকে কিছুদিন আগেই উপযাচক হয়ে ইমরান খান পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছিলেন, তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনের জন্য কাজ করছেন কিন্তু কিছু শক্তি আছে যারা ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যকার উত্তেজনার অবসান চায় না।

তবে ইরান এবং সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছি। তবে সৌদির সঙ্গে নিজেদের সম্পর্কই যে তলানিতে ঠেকবে, সেটা বোধহয় বুঝতে পারেননি পাক প্রধানমন্ত্রী।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও