স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রস্তুতি চূড়ান্ত৷ আজ দুপুরেই বিদ্যাসাগর কলেজে পুঃপ্রতিষ্ঠা পাবে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি৷ দু’টি ব্রোঞ্জের মূর্তির একটি আবক্ষ, অন্যটি পূর্ণাবয়ব৷ হেয়ার স্কুল প্রাঙ্গনে জমায়েত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পদযাত্রা হবে বিদ্যাসাগর কলেজ পর্যন্ত৷ নিরাপত্তা আঁটাসাঁটো করা হয়েছে৷ কিন্তু বিতর্ক থামছে না৷

বিদ্যাসাগর কলেজের প্রাক্তনী সংসদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এদিনের অনু্ষ্ঠানে তারা যোগ দেবেন না৷ সরকারি কোনও আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়নি৷ তার জেরেই এই পদক্ষেপ বলে প্রাক্তণী সংসদের তরফে বিবৃতি মারফৎ বলা হয়েছে৷ একই কারণে অসন্তুষ্ট কলেজের অধ্যাপক, শিক্ষক, অ-শিক্ষক কর্মীরাও৷

আরও পড়ুন: সোপিয়ানের আওনেরায় সেনা জঙ্গি গুলির লড়াই

মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানকে মাথায় রেখে সোমবারই কলেজে বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়৷ জানা গিয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের জানিয়ে দেয় যেখানে মূর্তি ভাঙা হয়েছিল সেখানেই অনুষ্ঠান রয়েছে৷ থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং৷ নিরাপত্তার কারণে সেখানে হাজির পারবেন না কলেঝের কোনও শিক্ষক, পড়ুয়া ও অ-শিক্ষক কর্মচারী৷

বিদ্যাসাগরের মূর্তির পুঃপ্রতিষ্ঠা কলেজে৷ অথচ কলেজেরই কেউ থাকবেন না৷ এতেই ক্ষোভের সঞ্চার হয় অধ্যাপক, শিক্ষক মহলে৷ বৈঠকেও টিচার্স কাউন্সিলের সম্পাদকের তরফে অসন্তোষের কথা জানানো হয়৷ শিক্ষকদের ক্ষোভ কমাতে আসরে নামেন বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষ গৌতম কুণ্ডু৷

কলেজের দশজন বর্ষিয়ান অধ্যাপক, অধ্যাপিকা, শিক্ষকদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়৷ অধ্যকের আশ্বাস এই দশজন যাতে মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যেতে পারেন সে ব্যাপারে বিশেষ আবেদন করা হবে৷ তবে সোমবার রাত পর্যন্ত তা আসেনি৷ কিন্তু এতে ক্ষোভ কমেনি৷ উলটে শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে আসে৷ এব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হননি অধ্যক্ষ৷

আরও পড়ুন: নৈহাটিতে উত্তেজনা, তৃণমূল ওয়ার্ড সভাপতির বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা

লোকসভা ভোটের আবহে গত মাসে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের রোড-শোয়ের মাধেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য তথা দেশের রাজনীতি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে অমিত শাহের মিছিলে যাঁরা ছিলেন তাঁরাই ওই মূর্তি ভেঙেছেন। বিজেপি নেতৃত্ব অস্বীকার করেন। মুখ্যমন্ত্রী রাতেই ছুটে যান বিদ্যাসাগর কলেজে। পরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন নতুন করে মূর্তি গড়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও জানিয়েছিলেন, পঞ্চ ধাতুর বিদ্যাসাগর মূর্তি তৈরি করে দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী তা নিয়ে কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন মোদীর দিকে৷

নিমন্ত্রণ বিভ্রান্তির আগে বিদ্যাসাগরের মূর্তি বসানোকে কেন্দ্র করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল৷ মূর্তি উন্মোচনের জন্য বিদ্যাসাগর কলেজের পুরনো ভবনের নির্দিষ্ট পরীক্ষার দিনক্ষণ বদল করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক কারণেই এই বদল বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ উড়িয়ে সিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এরা মনীষীদের গুরুত্ব দেন না। বিদ্যাসাগর আমাদের কাছে অনেক বড়। পরীক্ষাপিছিয়ে যাওয়ার অনেক কারণ থাকে৷।’’