নয়াদিল্লি: কোনও চিনা অনুপ্রবেশ হয়নি ভারতে। বিজেপি সাংসদের দাবি উড়িয়ে দিল ভারতীয় সেনা। বুধবার ওই সাংসদের প্রকাশ করা ভিডিও ভুয়ো বলে দাবি করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সেনাবাহিনী।

এদিন অরুণাচল প্রদেশের বিজেপি সাংসদ দাবি করেছিলেন অরুণাচলের প্রত্যন্ত আনজয় জেলায় ঢুকে পড়েছে চিনা সেনা। এমনকি একটি ব্রিজ বানিয়ে ফেলেছে বলেও দাবি করেন ওই সাংসদ। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

এরপরই ভারতীয় সেনার তরফে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ”এরকম কোনও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে জায়গার ছবি দেখানো হচ্ছে, সেটি আসলে ফিশ টেল। ওই এলাকায় লাইন অফ কন্ট্রোলের সীমা নিয়ে ভিন্ন ধারনা আছে। ঠিক যেমন অন্যান্য অনেক জায়গাতেই আছে।” তবে সেনাবাহিনী গিয়ে এই দাবির সত্যতা যাচাই করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যে নালার উপর ব্রিজ তৈরি হচ্ছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ‘ডিমারু’ নামের সেই ব্রিজ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

বিজেপি সাংসদ তাপি গাও ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, এক মাস আগে ব্রিজটি বানানো হয়েছে৷ চিনা সেনারাই এই ব্রিজ নির্মাণ করে৷ তাপির গাওয়ের মতে অরুণাচল প্রদেশ খুবই স্পর্শকাতর এলাকা৷ এখানকার পার্বত্য অঞ্চলে একাধিক অনুপ্রবেশের রাস্তা রয়েছে৷ যা নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন কেন্দ্রের৷

বিজেপি সাংসদের দাবি ওই ব্রিজের চারপাশে বুটের দাগ দেখতে পাওয়া গিয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দারাই এই খবর দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷ যদি এই খবর সত্যি হয়, তবে ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তা রীতিমত উদ্বেগের বলে জানিয়েছেন এই বিজেপি সাংসদ৷

উল্লেখ্য, অরুণাচল প্রদেশের আনজয় জেলার সানগালাম গ্রামটি চিন সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত৷ রীতিমত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করেছে ভারতীয় সেনা৷ চিন সীমান্ত থেকে এটি মাত্র ২০০ কিমি দূরে অবস্থিত৷

সেনাবাহিনীর তরফে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত এবং চিন দুই দেশই সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পক্ষপাতি। দুই দেশই ২০০৫ সালে এই সংক্রান্ত একটি চু্ক্তিতে সহমত হয়েছে।