দেবময় ঘোষ, কলকাতা: উত্তরপ্রদেশের দু’টি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির হার এবং সমাজবাদী পার্টি-বহুজন সমাজ পার্টি জোটের জয় ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে আপাত নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে৷ জাতীয় রাজনীতিতে দুই চরম বিরোধী সমাজবাদী পার্টি-বহুজন সমাজ পার্টি জোট বেঁধে শাসকদলকে হারিয়ে প্রমাণ করেছে- ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’৷

বাংলার রাজনীতিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে হারাতে বিরোধীরা কি এক হতে পারেন? উলুবেড়িয়া লোকসভা এবং নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে অন্তত বিপরীত চিত্রই দেখা গিয়েছে৷ বৃহত্তর বিরোধী জোট তো দূরের কথা, ইভিএমে শাসকদলই একতরফা রাজত্ব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ তৃণমূল কংগ্রেস ভোটে জিতেছে৷ দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে বিজেপি৷

তৃণমূলের বিরূদ্ধে জোট বেঁধে লড়াই করার ব্যাপারে কংগ্রেস এবং সিপিএম অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে৷ সম্প্রতি শেষ হওয়া রাজ্য কমিটির বৈঠকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র কোনও দলের নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, বৃহত্তর, গণতান্ত্রিক মঞ্চ গড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই হবে৷ নাম উল্লেখ না করলেও কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

কংগ্রেস-সিপিএমের এই অঘোষিত জোট থেকেই পরিষ্কার, শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোট দু’টি ভাগেই ভাগ হবে৷ শাসক তৃণমূলকে তা কতটা সাহায্য করবে, আগামী নির্বাচনগুলির ফলাফল তা বলে দেবে৷

নির্বাচন নিয়ে রাজ্য বিজেপির রণনীতি জলের মতো পরিষ্কার৷ রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘যে সব কর্মীরা তৃণমূল ছেড়ে নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, আমরা তাঁদের জন্য দরজা খোলা রেখেছি৷ আমরা তাঁদের দলের চিহ্ন দেব৷ তাঁরা বিজেপির চিহ্নতেই ভোটে লড়বেন৷’’

রাজ্য বিজেপির এই সহ সভাপতির বক্তব্য, ‘‘সিপিএম এবং কংগ্রেসের কর্মীরাও এখন বুঝে গিয়েছেন, বিজেপিই প্রধান বিরোধী দল৷ তাই তাঁদের জন্যও আমরা দরজা খোলা রেখেছি৷’’ অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, ‘‘আমরা অবশ্যই জোটে আছি৷ সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাদের জোট রয়েছে৷ বাকি জোটদের উত্তর সাধারণ মানুষই দেবেন৷’’

এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অন্য দলের লোক নেওয়া ছাড়া বিজেপির আর কোনও উপায় নেই৷ আমরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে দেখেছি বাংলায় বিজেপি বলে কিছু নেই৷ অন্য দল ছাড়া ওদের ‘ক্যান্ডিডেট’ কোথা থেকে আসবে?’’ একই সঙ্গে পঞ্চায়েতমন্ত্রী বলেন, ‘‘সিপিএম-কংগ্রেসের জোটের ব্যাপারে আমরা তৈরি আছি৷ উত্তরপ্রদেশে শাসকদলের বিরুদ্ধে জোট কার্যকর হতে পারে৷ কিন্তু এখানে হবে না৷’’

বিধানসভায় বামফ্রন্টের পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তীর মতে, ‘‘বিজেপিকে এ রাজ্যে জায়গা করে দিয়েছে তৃণমূলই৷ ভোটাররা এটা ভালো করেই জানেন৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘ অনেকদিন আগে জ্যোতিবাবু একটা কথা বলেছিলেন, তৃণমূলের সবথেকে বড় পাপ, তারা বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জোট করেছে৷ এ রাজ্যেও বিজেপিকে জায়গা দিতে সাহায্য করেছে৷ বিজেপি তৃণমূলকে হারাতেই বৃত্তর জোটের প্রয়োজন৷’’

বিরোধীরা কি এক হতে পারেন? এ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘‘বিরোধী জোটে বিজেপির আসার তো কোন প্রশ্ন নেই৷ অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক শক্তিগুলির মধ্যে বিজেপি আসে না৷ তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করবে গণতান্ত্রিক জোট৷’’

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।