স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: NRC তে একজন হিন্দুও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যাবে না, এটা বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সাফ জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কৈলাস বলেছেন, প্রথমে নাগরিকত্ব বিল সংসদে পাস হবে। বাংলাদেশ থেকে আগত সেদেশের ‘সংখ্যালঘু’ হিন্দুরা এদেশের নাগরিকত্ব পাবেন।

কৈলাস বুধবার মহাজাতি সদনে লোকগানের শিল্পীদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি যা বলেছেন তা-ই NRC বা নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বিজেপির মূল বক্তব্য। কৈলাস এও পরিষ্কার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে NRC হবেই। লোকসভা নির্বাচনের মুখেই রাজ্যের ভোটারদের জাতীয় নাগরিকপঞ্জীকরণ বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) নিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে৷

লোকসভা নির্বাচন শেষ হয়ে গিয়েছে রাজ্যে ১৮টি আসন পেয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বিজেপি৷ লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ বলে এসেছেন – পশ্চিমবঙ্গে সব থেকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু এসআরসি৷ কারণ, ২০২১ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অসমের মতো এরাজ্যেও এনআরসি জারি করা হবে৷ অসমে এনআরসি নিয়ে নতুন করে গোলমাল বেধেছে, কারণ ১৯ লাখ মানুষের নাম ওই তালিকায় নেই৷

এনআরসি নিয়ে বিজেপির যা বক্তব্য, তা পরিষ্কার করে দিয়ে গিয়েছেন অমিত শাহ৷ তিনি রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের আগেই বলে গিয়েছেন, ভারত ভাগ হয়েছিল ধর্মীয় কারণেই৷ তাই প্রতিবেশি দেশ থেকে আসা মানুষদের অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থী – এই দুই ভাগে ভাগ করতে চায় বিজেপি৷ সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন অমিত৷ নাগরিকত্ব বিল নিয়ে সংসদে তার অবস্থান কী হবে তা জানতে চেয়েছিলেন অমিত৷

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনআরসি ইস্যুটির বিরোধিতা করছেন৷ তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, এনআরসি-এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের একঘরে করার চেষ্টা চলছে৷ সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিলের মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের বিদেশী বানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷ এনআরসি বাংলা বিরোধী৷ দুর্গাপুজো উদ্বোধন করতে কলকাতায় ফের আসছেন অমিত শাহ। তিনি, নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে NRC নিয়ে বক্তব্য রাখবেন।