স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া: পঞ্চায়েত ভোটের দামামা বাজতেই গ্রামে গ্রামে দলীয় পতাকা, ফেস্টুন, পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে৷ ঝাঁপিয়ে পড়েছে কে আগে দখল নেবে দেওয়াল৷ দলীয় রাজনীতির রঙে রঙিন হয়ে গিয়েছে বাংলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলো৷ একমাত্র ব্যতীক্রম বোধহয় পুরুলিয়া-২ ব্লকের বেলমা গ্রাম৷

এ গ্রামে বছরভর যেমন ছবি থাকে৷ ভোটের সময়ও তেমনটাই৷ নির্বাচন নিয়ে কোনও তাপ উত্তাপ নেই৷ একটাও দলীয় পতাকা চোখে পড়বে না৷ দেওয়ালে সাদা চুনটুকু দেয়নি৷ দলীয় প্রার্থীর হয়ে লেখা তো দূর কি বাত! যে কেউ ভাববে এ গ্রামের ঘর কে ঘর বুঝি বা এবার ভোট না দেওয়ার পণ করেছে৷ বয়কট করেছে গণতন্ত্রের উৎসবকে৷

আরও পড়ুন: মালদহে পণের বলি এক গৃহবধূ

কিন্তু মোটেই তেমনটা নয়৷ আসলে গ্রামপঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে শাসকদলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে৷ কেউ বলছেন তাঁরা ‘গোঁজ’৷ আবার কেউ বলছেন ‘বিক্ষুব্ধ’৷ তবে তলে তলে সকলেই মনে করছেন টিকিটখানা বোধহয় তাঁর নামেই আসবে৷ কিন্তু মনোনয়ন-প্রার্থীর সংখ্যা এতটাই বেশি কেউ আর বেগার খাঁটতে চাইছেন না৷ কার নাম দেওয়ালে উঠবে, আর কার টিকিটের আশা যে মাঠে মারা যাবে তা তো এখনই স্পষ্ট নয়৷

সেসব দল আগে খোলসা করুক৷ তারপর দেওয়াল লিখবে বলে ঠিক করেছেন শাসকদলের লোকজন৷ আর মন মত প্রার্থী না হলে তো দলের হয়ে প্রচারের কোনও প্রশ্নই নেই৷ সেক্ষেত্রে আগেভাগে দলীয় পতাকা, ফেস্টুন টাঙাতে গিয়ে এই গরমে ঘেমে নেয়ে কেউই একশা হতে চাইছেন না৷

আরও পড়ুন: আগামী চারদিন নগদ টাকার প্রয়োজনে এটিএম-ই ভরসা

এ তো গেল ঘাসফুল শিবিরের ছবিটা৷ গেরুয়া শিবিরেরও ছবিটাও একই৷ বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘আসলে ভোট নিয়ে এক টানাপোড়েন চলছে, তাই এখনও দেওয়াল লেখা হয়নি৷’

গত পঞ্চায়েত ভোটে বেলমায় তৃণমূলের জয় জয়কার হলেও বিধানসভা ভোটে সিপিএম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী ভালোই ভোট পেয়েছিলেন৷ কিন্তু এবার তাদের দেখাই নেই৷ কার্যত নিশ্চিহ্ন৷ অবশ্য সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কৃষ্ণপদ বিশ্বাস তা মানতে চাইলেন না৷ তাঁর কথায়, ‘এই এলাকায় আমাদের যে নেতা ছিলেন সুভাষ দেওঘরিয়া কিছুদিন আগে মারা গিয়েছেন। এই এলাকায় তিনিই মোটামুটি পঞ্চায়েত ভোট পরিচালনা করতেন। অতীতে বেলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। তাছাড়া পুরুলিয়া দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষও ছিলেন৷ তবে খুব শীঘ্রই ওই গ্রামে আমরা দেওয়াল লেখার কাজ শুরু করব।’

আরও পড়ুন: ৮০,০০০ লোককে নিয়োগ করবে এই সংস্থা

এখানে শাসক দলের জেলাপরিষদের ২০ নম্বর আসনের প্রার্থী হেমন্ত রজক৷ পঞ্চায়েত সমিতিতে ১২ নম্বর আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় মনোনয়ন দাখিল করেছেন শাসক দলের তিনজন শিবানী মাহাতো, মঞ্জু মাহাতো ও সোনামনি মাহাতো।

দল এখনও কোন প্রার্থী ঘোষণা না করায় এখানে তিনজনই মনোনয়ন জমা করে দিয়েছেন। তাই স্থানীয় নেতৃত্ব বুঝতে পারছে না শেষমেষ কার ভাগ্যে শিঁকে ছিড়বে! একইভাবে এখানকার গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪ নম্বর আসন অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় প্রার্থী হয়েছেন বেলমা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বুলেট মাহাতো ও অচিন্ত্য মালাকার। ফলে এই এলাকায় প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় দল দেওয়াল লিখতেই চাইছে না।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরি পেতে বাবাকেই খুনের সুপারি

তবে সম্প্রতি গ্রাম ঘুরে এসেছেন জেলাপরিষদের প্রার্থী হেমন্ত রজক৷ গ্রামের এমন ছবিতে কার্যত অখুশি তিনি৷ দলের নেতা-কর্মীদের দেওয়াল লেখার নির্দেশও দিয়েছেন৷ এলাকার ১২ নম্বর বুথের কার্যকরী সভাপতি সীতেশ মাহাতো বলেন, “আসলে সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রার্থী কে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তাই দেওয়াল লেখার কাজ শুরু করতে পারিনি।”