কলম্বো: শ্রীলঙ্কায় মুসলিম মহিলাদের মুখ ঢাকার উপর জারি হল নিষেধাজ্ঞা৷ রবিবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা৷ সোমবার থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হল জেশজুড়ে৷

নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বলা হয়েছে, দেশের সুরক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনও ভাবে বিঘ্নিত হোক সেটা কাম্য নয়৷ তাই এখন থেকে কোনওভাবে প্রকাশ্যে মুখ ঢাকা যাবে না৷ কারণ এতে কাউকে চিনতে অসুবিধা হয়৷ প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কায় মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মুসলিম৷ হিন্দুদের পর মুসলিমরা এই দ্বীপরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়৷

আরও পড়ুন: জইশ ও আইসিস জঙ্গিরা ভারতে ফিঁদায়ে হামলার ছক কষেছে: রিপোর্ট

ইস্টার ডে’র দিন হামলার পর এমনই একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করার সম্ভাবনা তৈরি হয়৷ তখন শোনা গিয়েছিল সরকার বোরখার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে৷ অনেক সাংসদই পার্লামেন্টে বোরখা নিষিদ্ধ করার দাবি জানান৷ তবে রবিবার প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে যে বিবৃতি জারি করা হয় তাতে বলা মুখ ঢাকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা হয়েছে৷

গতকালই শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বোমা হামলার পরই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ তাতে দেখা গিয়েছে, জাহরান হাশিম নামের একজন ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনার দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এই ব্যক্তি৷ সেও নাশকতায় মৃত৷ বিবিসি রিপোর্ট থেকে এমন খবর জানা যাচ্ছে৷

ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে৷ নাশকতায় জড়িত সাতজনের ছবি প্রকাশ করে তারা। সেই ছবিতে জাহরান হাশিমকেও দেখা গিয়েছে। ওই সাতজনের মধ্যে ছজনের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা। কিন্তু জাহরানের মুখ ঢাকা ছিল না৷ হাশিম শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় শহর কাত্তানকুদি এলাকার বাসিন্দা।

গত রবিবার শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর পাঁচতারা হোটেলে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হয়৷ সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছে হাশিমের। সরকারের দাবি, হাসিমের সঙ্গে ছিল অপর আত্মঘাতী জঙ্গি ইব্রাহিম৷ বিস্ফোরণে দু জনের মৃত্যু হয়েছে৷ ভারতের দেওয়া সতর্ক বার্তার পরেও নিরাপত্তার গাফিলতি স্বীকার করেছে সরকার৷ নাশকতার পরে দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব ও পুলিশপ্রধানকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা।