সৌমেন শীল, নয়াদিল্লি: ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিষয়টা আন্তর্জাতিক হলেও এই বিশেষ দিনটি নিয়ে বাঙালিদের আবেগ এবং উন্মাদনা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ জুড়ে এই দিনটি বিশেষ সমারহের সঙ্গে পালন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাও পিছিয়ে থাকে না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা উপায়ে ভাষা শহিদদের সম্মান জানানো হয়।

এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে দিল্লির বাঙালিরা। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে ভারতের জাতীয় রাজধানীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে মাতামাতি নেই। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। যদিও তা ছিল মৈথিলি ভাষার উপরে। যার আয়োজক ছিল মৈথিলি সাহিত্য মহাসভা।

দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্ক বা সিআর পার্ক বাঙালিদের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় প্রচুর বাঙালির বাস। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বাঙালি। অনেক দোকানের বোর্ড কিনবা আবাসনের নামের ফলক বাংলায় লেখা থাকে। পশ্চিমবঙ্গের কোনও পাড়ার সঙ্গে এই এলাকার ফারাক করা মুশকিল। এখানে আলাদা করে মাছের বাজারও রয়েছে। সব দোকানের দোকানীরা বাংলাতেই কথা বলতে অভ্যস্ত।

এই এলাকাতে এদিন ভাষা দিবস উদযাপন হওয়া অনেক দূরের কথা বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনাও কোথাও শোনা গেল না। অথচ এই চিত্তরঞ্জন পার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন জড়িয়ে রয়েছে। দেশ ভাগের পরে ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুরা দক্ষিণ দিল্লির এই এলাকায় বসবাস করা শুরু করে। ১৯৬০ সালে উদ্বাস্তু কলোনি তৈরি হয়। ক্রমশ বাড়তে থাকে বাঙালিদের বসবাস। ১৯৮০ সালে নাম হয় চিত্তরঞ্জন পার্ক।

নিত্যদিন বিকেলের পরে বিভিন্ন বয়সের বাঙালিদের আড্ডার আসর বসে এই সিআর পার্কে। আমার সোনার বাংলা রেস্টুরেন্টের সামনে বসা এক প্রবীণ বাঙালি জানালেন এখানে সব ভাষাভাষির মানুষ থাকে তাই ভাষা দিবস নিয়ে তেমন কিছুই হয় না। বিষয়টি যে দিল্লিতে গুরুত্বহীন তা বেশ বোঝা গেল তাঁর কথায়। কিন্তু এটা তো আন্তর্জাতিক বিষয়। যার ভিত্তি বাঙালিরা। এই বিষয়ে অপর একজন জানালেন ভাষা দিবস বাংলাদেশে হয়। পশ্চিমবঙ্গেও অনেক জায়গায় হয়, এখানে হয় না।

এই সিআর পার্কেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। খবর সংগ্রহের তাগিদে সাংবাদিকদেরাও ঢু মারেন জাতীয় রাজধানীর বাঙালিদের ডেরায়। বাংলার গণতন্ত্র বাঁচাতে একদল বাঙালি বিজেপি কর্মী-সমর্থক সিআর পার্কে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ দিল্লি সফর নিয়েও উন্মাদনা কম ছিল না। শেষ রবিবারের সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লির ধর্না নিয়ে জোরাল বিতর্কের সাক্ষী থেকেছে এই সিআর পার্ক। নিত্যদিনের আলোচনায় উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের অবস্থা কিংবা কংগ্রেস জমানার কথা। এই সবকিছুর মাঝে ভাষা দিবস যেন খুবই ম্লান।