নয়াদিল্লি: বিদ্যুৎ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে শনিবার দাবি করা হয়েছে যেহেতু রবিবার রাত নটায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয় মিনিটের জন্য শুধুমাত্র বাসস্থানের আলো নেভানোর কথা বলেছেন তাই এর ফলে গ্রিডে কোন প্রভাব পড়বে না। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আবেদন সম্পর্কে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।‌ কারণ ওইভাবে সুইচ অফ করার ফলে ‌ পাওয়ার গ্রিড বসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

নির্দেশিত সীমার মধ্যে বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি বজায় রেখে দেশে গ্রিডের স্থিতিশীল অবস্থান বজায় রাখার দায়িত্ব ‌ কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক অথরিটির (সিই আরসি)। নির্দেশিত ফ্রিকুয়েন্সি থেকে তা সরে এলে তখন তা ম্যানেজ করা হয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়িয়ে কমিয়ে। সে ক্ষেত্রে কোন কারনে ফ্রিকোয়েন্সি কমলে বাড়লে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত হতে পারে। অনেকে আশঙ্কা করেন, তখন গোটা দেশে সব আলো ‌ নিভিয়ে দিলে বিদ্যুতের চাহিদা ভীষণ ভাবে কমে যাবে। এর ফলে গ্রিড ফ্রিকুয়েন্সি ধাক্কা খেতে পারে এবং তখন গ্রিড ব্যবস্থাটা ভেঙে পড়তে পারে।

তারই প্রেক্ষিতে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন চাহিদা সাপেক্ষে যাতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা যায়‌ এবং স্থিতিশীল থাকে সেইমতো বৃহৎ ভারতের ইলেকট্রিসিটি গ্রিড। পাশাপাশি বলা হয়েছে যে লাইট নেভানোর কথা বলা হয়েছে সেটা গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় করবেন। তাছাড়া ওই কর্মসূচিতে ঘরের আলো নেভানো হলেও রাস্তার আলো নেভানো হচ্ছে না এবং বাড়ির টিভি, পাখা, এসি ,ফ্রিজ ইত্যাদি নেভানোর কথা বলা হয়নি। শুধুমাত্র ঘরের আলো বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ওই আবেদন।

তাছাড়া বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, হাসপাতালসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা যেমন – পাবলিক ইউটিলিটি,পুরসভা ,পুলিশ এবং উৎপাদন কেন্দ্রে আলো জ্বালিয়ে রাখা হবে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একেবারে ব্যাখ্যা করে আলো নেভানোর বিষয়টি শুধুমাত্র বাসস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জনগণের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অবশ্যই রাস্তার আলো ওই সময় জ্বালিয়ে রাখতে হবে।

শুক্রবার সকাল ন’টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও মারফত একটি বার্তা দেন এবং সেখানে তিনি দেশের মানুষের কাছে আবেদন রাখেন রবিবার ৫ এপ্রিল রাত নটায় নয় মিনিটের জন্য আলো বন্ধ রাখার। তার বদলে তিনি ওই সময় নাগরিকদের মোমবাতি প্রদীপ অথবা মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জ্বালিয়ে রাখার আর্জি জানান‌ যা এই‌ করোনা মোকাবিলায় সংহতি প্রতীক রূপে।