বেঙ্গালুরু: ভোটের ফলাফলের আগেই বাড়ল বিরোধী জোটের অস্বস্তি৷ নির্বাচনী ফল না বের হওয়া পর্যন্ত জোট নিয়ে আর কোনও কথা বলতে নারাজ জেডিএস৷ চন্দ্রবাবুর সঙ্গে বৈঠক শেষে জানিয়ে দিলেন জেডিএস প্রধান এইচ ডি দেবগৌড়া৷

বেঙ্গালুরুতে কুমারস্বামীর বাড়িতে হয় বৈঠক৷ সেখানেই, এইচডি দেবগৌড়া চন্দ্রবাবুকে বলে দেন, ‘‘আগে ফলাফল বের হোক৷ তারপরই জোট নিয়ে কথা বলা যাবে৷’’ পরে সাংবাদিকদের সামনেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানান, ভোটের আগে জোট নিয়ে আমরা আর কথা বলছি না৷ চন্দ্রবাবু বলেন, ‘‘জোটের পর কথা বলা মানে ভুল কিছু নয়৷ আমরা ভোটের ফলাফলের পরেই ফের আলোচনা করব৷ বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ৷’’ জোট জিতলে রাগুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চেয়ে দেবগৌড়া দরবারও করেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে৷ দাবি টিডিপি সুপ্রিমোর৷

মঙ্গলবার কনস্টিটিউশন হলে বিরোধী জোটের বৈঠকে যোগ দেননি কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী৷ জেডিএস নেতার অনুপস্থিতি ভাবিয়েছিল বিরোধী ২২ দলের নেতাদের৷ এদিকে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, বুথফেরৎ সমীক্ষা দেখেই এই পদক্ষেপ কুমারস্বামীর৷ যিনি নাকি ক্রমশ বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন বলেও খবর৷

মান ভাঙাতে তড়িঘড়ি এদিন রাতেই বেঙ্গালুরু যান টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু৷ কিন্তু জবাবে যা শুনলেন তা ফলাফলের আগে বিরোধী শিবিরের ছন্নছাড়া রূপটাই তুলে ধরলো৷ আশঙ্কা বাড়াল জেডিএসের গেরুয়া জোটে নাম লেখানোর৷

মঙ্গলবার দিল্লিতে যখন ২১টি দলের প্রতিনিধিরা বৈঠক করছেন, তাতে নেই কুমারস্বামী। সূত্রের খবর, কর্ণাটকে বিজেপির জয়জয়কারের সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আসার পরই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যদিও এই বৈঠকে অনুপস্থিতি নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি কুমারস্বামীর অফিসের তরফে৷

বহু টানাপোড়েনের পর গত বছর কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কর্ণাটকে সরকার গড়ে জেডিএস৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কুমারস্বামীর শপথ নেওয়ার দিনেই মহাজোটের প্রাথমিক একটা ছবি দেখেছিল দেশবাসী। মঞ্চে সেদিন সনিয়া, মমতা, রাহুল, অখিলেশ, ইয়েচুরি, মায়াবতী- কে নেই! আর বুথ ফেরত সমীক্ষা সমানে আসতেই বেঁকে বসছেন সেই কুমারস্বামী৷ এছাড়া, রাজ্যের সরকার চালাতে প্রতি পদে কংগ্রেসের বাধার সম্মুখীন হওয়া এর অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে৷

কংগ্রেসের রোশন বেগ তো মঙ্গলবারই সিদ্দারামাইয়াকে কটাক্ষ করে দলের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন৷ তাঁর কথায়,‘‘কেসি বেণুগোপাল একটা ভাঁড়। রাহুল গান্ধী জন্য খারাপ লাগছে। বেণুগোপালের মতো ভাঁড়, সিদ্দারামাইয়ার ঔদ্ধত্য ও গুন্ডু রাওয়ের ফ্লপ শোয়ের ফল ভোগ করতে হচ্ছে কংগ্রেসকে।’’ সরকার পতনের জন্য সিদ্দাকেই কাঠগড়ায় তোলেন এই কংগ্রেস নেতা৷

বুথ ফেরৎ সমীক্ষার ফলাফলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন মমতা থেকে চন্দ্রবাবু, শরদ পাওয়ার থেকে মায়াবতী-অখিলেশ সহ বিরোধী নেতৃত্বের প্রত্যেকেই৷ এই অবস্থায় জোটবদ্ধভাবে থাকার কথাও জানায় বিজেপি বিরোধী দলগুলো৷ কিন্তু সমীক্ষার ফলই হোক বা কর্নাটক সরকার চালাতে কংগ্রেসের সঙ্গে তীক্ত জোটের অভিজ্ঞতা৷ আপাতত জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটে মোহভঙ্গের ইঙ্গিত দিয়ে রাখল জেডিএস৷ তবে কথায় বলে রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প৷ দেবগৌড়া-কুমারস্বামীদের ভবিষ্যত পদক্ষেপ হবে ফলাফল দেখে৷ মধ্যবর্তী সময় জল মাপার কৌশল দক্ষিণী এই রাজনৈতিক দলটির৷