নয়াদিল্লি : চাবাহার-জাহেদান রেলওয়ে প্রজেক্ট থেকে কোনওদিনই সরে আসেনি ভারত। এখনও এই প্রজেক্টের সমান অংশীদার রয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার ইরানের করা দাবিকে উড়িয়ে ঘোষণা করল কেন্দ্র। নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়েছে কোনও ভাবেই চাবাহার প্রজেক্ট থেকে তারা সরে আসেনি বা কারোর চাপে সরে আসবে না।

নাম না করে চিনকে কটাক্ষ করে কেন্দ্রের এক সূত্রের দাবি ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের মতোই রয়েছে। এই প্রজেক্টের কাজও চলছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য, কিছুটা দেরী হচ্ছে। তবে কারোর চাপের কাছে মাথা নুইয়ে ভারত সরে আসেনি।

উল্লেখ্য চাবাহার-জাহেদান রেলওয়ে প্রজেক্টে ৬২৮ কিলোমিটার রেল লাইন তৈরি হওয়ার কথা, যা জাহেদান ও চাবাহারকে যুক্ত করতে যাবে সিস্তান ও বালোচিস্তানের উপর দিয়ে। গালফ অফ ওমানে চাবাহারই ইরানের একমাত্র বন্দর।

‘ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়েজ’-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২১-এর মার্চ মাসের মধ্যে ১৫০ কিমি রেললাইন তৈরি হবে। ২০২২-এর মার্চ মাসের মধ্যে তৈরি হবে পুরো লাইন। এই প্রকল্পেই ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহায্য করছে ভারত।

তবে মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি জাতীয় সংবাদমাধ্যম এই প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। জানানো হয় চিনের হস্তক্ষেপে ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ হতে পারে। চিন ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পথে। ২৫ বছরের জন্য অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই চুক্তি হবে দুই দেশের, যার অর্থমূল্য ৪০০ বিলিয়ন ডলার।

শুধমাত্র ইরানের পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে সেই চুক্তি। এই চুক্তি হলে ভারতের সাথে যাতে ইরানের সম্পর্ক খারাপ হয়, সেই চেষ্টা চিন করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে বুধবার ইরানের প্রকাশিত রিপোর্ট নস্যাৎ করে দেয় ভারত।

কেন্দ্র জানিয়ে দেয় দুই দেশই সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। কোথাও কোনও ভুল বোঝাবুঝি নেই। এই রেল প্রজেক্ট শুধু ভারত ও ইরানের সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবে তা নয়, মধ্য এশিয়ার দেশ ও আজারবাইজানের মতো দেশগুলিও এই রেলওয়ে প্রজেক্টের মাধ্যমে উপকৃত হবে।

মঙ্গলবার জানা যায়, ভারতের সাহায্য ছাড়াই নিজেদের প্রজেক্ট এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছে ইরান। ভারতের জন্য অপেক্ষা করেনি দেশটি।

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গিরি জানিয়েছেন চবাহার-জাহেদান রেলওয়ে প্রজেক্ট ইরান নিজেদের ফান্ডেই তৈরি করবে। তিনি আরও জানিয়ে দেন, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। আগে এই প্রজেক্টটি ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে হওয়ার কথা ছিল। সেখানে যুক্ত ছিল ‘ইসলামিক রিপাবলিক রেলওয়েজ’ ও ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ