নয়াদিল্লি: পরিযায়ী মৃত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে দায় এড়ানো মন্তব্য করল কেন্দ্র। যেহেতু ওইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর তথ্য তাদের কাছে নেই সেহেতু ক্ষতিপূরণের প্রশ্নই উঠছে না।করোনা আটকাতে দেশজুড়ে আচমকা লকডাউন জারি হয়। বিপাকে পড়েন লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। এর ফলে অনাহারে, অসুস্থ হয়ে মারা যান বহু। হেঁটে গ্রামে ফিরতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন‌ অনেকে। এদিকে সোমবার কেন্দ্র সংসদে জানিয়ে দিল, এই লকডাউনে কত জন পরিযায়ী প্রাণ হারিয়েছেন সে তথ্য তাদের কাছে নেই।

এদিন বাদল অধিবেশন শুরু হয়। সেখানেই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, কত জন পরিযায়ী প্রাণ হারিয়েছেন এই লকডাউনে এবং তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা কি কেন্দ্র করছে। লিখিত জবাবে কেন্দ্রী শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রক জানিয়েছে, কত জন মারা গিয়েছেন সেই পরিসংখ্যান নেই। সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। পাশাপাশি জানিয়েছে, এই লকডাউনে কত জন দেশে কাজ হারিয়েছেন, তার খতিয়ানও রাখা হয়নি।

এদিকে বিশ্ব ব্যাংক এপ্রিলেই জানিয়েছিল, লকডাউন চার কোটি পরিযায়ী শ্রমিকের জীবনে প্রভাব পড়েছে। আর এপ্রিলেই কাজ হারিয়েছেন ১২ কোটি ১৫ লক্ষ দেশবাসী। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হকার, দিনমজুর, ছোট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে ন’‌ কোটি ১২ লক্ষেরই আর কাজ নেই হাতে।

সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি জানিয়েছে, দেশে রোজগেরেদের মধ্যে ৩৫ শতাংশই এই হকার, দিনমজুর, ছোট ব্যবসায়ী। এদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয় না। তাই লকডাউনের ধাক্কা তাঁদের ওপরই পড়েছে বেশি।

তবে কি সরকার পরিযায়ীদের সমস্যা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে?‌ কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার জবাবে জানান,‌একটি রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, স্বাস্থ্য কর্মী, সাফাইকর্মী ও বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একযোগে করোনা ভাইরাস এবং লকডাউনের মোকাবিলায় কাজ করছে।

তিনি সংসদকে আরও জানান, মার্চ মাসে লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর প্রায় ১.০৪ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের বাড়ি ফিরেছিলেন। ৪ হাজার ৬১১টিরও বেশি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ১ মে থেকে চালিয়েছে রেল। ৬৩.০৭ লক্ষের বেশি পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রামে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিকে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।