স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: অগ্নি দুর্ঘটনা থেকে এলাকার মানুষকে রেহাই দিতে বুনিয়াদপুরে চালু হল দমকল কেন্দ্রের। দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি ও হরিরামপুর ব্লকের জন্য তৈরি এই কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন জেলাশাসক ডাঃ দীপপ প্রিয়া পালরাজ। তবে দমকল কেন্দ্রটি চালু হলেও সেটিতে নেই কোনও নিজস্ব ল্যান্ড ফোন নম্বর।

অভিযোগ বহুদিন আগে আবেদন করা হলেও বিএসএনএল কর্তৃপক্ষ এখনও টেলিফোনের সংযোগ দিতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই অগ্নিনির্বাপণ পরিষেবার মত জরুরি ক্ষেত্রে টেলিফোন সংযোগ দিতে না পারায় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকার মানুষের মনে। এলাকার মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার কথা ভেবে দমকল কর্মীরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সকলকে দিয়েছে। যাতে কোথাও অগ্নি দুর্ঘটনা বা অন্য কোন বিপদ হলে সেই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন সকলে।

দেশ জুড়ে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার বিজ্ঞাপন ও ঢাকঢোল পেটান হলেও বাস্তবে তা যে শুধুই কথার কথা সেটা বুনিয়াদপুর দমকল কেন্দ্রে স্পষ্ট হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের নিজের অধীনে থাকা সংস্থা খোদ বিএসএনএল পরিষেবা আজও আধুনিকীকরণ করতে পারা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বহুদিন আগে আবেদন করে সংযোগ না পাওয়ায় টেলিফোনের ল্যান্ড নম্বর ছাড়াই দমকল কেন্দ্রটি চালু করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। এতদিন গঙ্গারামপুর মহকুমার অধীন হরিরামপুর বুনিয়াদপুর এলাকায় কোন দমকল কেন্দ্র ছিল না।

প্রতি বছর আগুন লেগেই থাকে। গঙ্গারামপুর রায়গঞ্জ বা গাজোল থেকে দমকলের ইঞ্জিন পৌঁছানোর আগেই বাড়িঘর ও সম্পত্তি পুড়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছে বহু পরিবারকে। ২০১১ সালে তৎকালীন বিধায়ক বিপ্লব মিত্র উদ্যোগ নিয়েছিলেন এলাকায় দমকল কেন্দ্র তৈরির। তাঁর প্রচেষ্টাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে শুরু হয় নির্মাণের কাজ।

তিন কোটি তেত্রিশ লক্ষ টাকায় ব্যয়ে বেশ কয়েক মাস আগে সেটি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলেও। ল্যান্ড ফোনের অভাবে এতদিন তা চালু করা যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ। সোমবার দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিপ্লব মিত্র, সাংসদ অর্পিতা ঘোষ, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বাচ্চু হাসদা ও জেলাশাসক ডাঃ দীপপ প্রিয়া পালরাজ সহ এলাকার সাধারণ মানুষজনও।

দফতরের ডিভিশনাল অফিসার প্রবীর রায়ের অভিযোগ, আবেদন করেও সংযোগ না পাওয়ায় এই কেন্দ্রের নিজস্ব কোন ল্যান্ড নাম্বার নেই। কিন্তু মানুষের বিপদের কথা চিন্তা করে নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরই সকলকে দেওয়া হচ্ছে। বিপদের সময় যে নম্বরগুলিতে ফোন করলে ইঞ্জিন ও কর্মীরা দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে ছুটে যাবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।