বেঙ্গালুরু : প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে কোনও সংঘাত নেই বরং সুসম্পর্কই রয়েছে৷এমনটাই দাবি করেছেন ইনফোসিসের সিইও বিশাল সিক্কা৷তিনি জানান, প্রায়ই প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণমূর্তির সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা হয় যেমন সোমবারও অ্যাপল ওয়াচ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে৷ সিক্কার পাশাপাশি সংস্থার চেয়ারম্যান আর শেষাশয়ীও দাবি করেছেন, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে পর্ষদের লড়াইটা একেবারে সংবাদমাধ্যমের রটনামাত্র। যদিও সোমবারে সাংবাদিক বৈঠক ইনফোসিসের বর্তমান কর্তারা এমন দাবি করলেও দেখা যায় তার পরেও সংস্থার কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন করতে দেখা গেল প্রাক্তন কর্তা টি ভি মোহনদাস পাইকে।

প্রসঙ্গত, গত মাসেই সংস্থার পর্ষদকে চিঠি পাঠিয়ে বর্তমান পরিচালন পদ্ধতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণমূর্তি, ক্রিস গোপালকৃষ্ণন, নন্দন নিলেকানিরা। প্রশ্ন তোলা হয়েছিল সিক্কার বিপুল বেতন বৃদ্ধি এবং ছেড়ে যাওয়া কর্তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে৷ প্রতিষ্ঠাতারা এই সংস্থার প্রাত্যহিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও তাদের বা তাদের পরিবারের হাতে এখনও রয়ে গিয়েছে ইনফোসিসের ১২.৭৫% শেয়ার৷ ফলে তাঁদের তোলা প্রশ্নকে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই। একই সুরে সংস্থার প্রাক্তন কর্তা পাইও প্রশ্ন তুলেছেন শীর্ষ কর্তাদের বেতন বাড়লেও কেন তার সঙ্গে সমতা রেখে শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন বাড়ছে না ?

এহেন পরিস্থিতি দেখে বর্তমান কর্তারা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তাঁদের মতো করে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন৷ শেষাশয়ীর জানান, সিক্কার মোট বেতন যেমন বেড়েছে তেমনই আবার মূল বেতন কিন্তু ৫০ লক্ষ থেকে কমে ৪০ লক্ষ ডলার হয়েছে। সংস্থায় দীর্ঘ দিন ধরে থাকা এবং ভাল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য বেতনের বাকী অংশে তাঁর এই বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে শোয়ারহোল্ডারদের অনুমতি নেওয়া হয়। সংস্থা ছাড়তে প্রাক্তন সিএফও-কে কেন ১৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে তাঁর জবাবে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির মুখ বন্ধ রাখতে ওই টাকা দেওয়া হয়। তাছাড়া আপত্তি ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত সিন্‌হার স্ত্রীকে পর্ষদে আনা নিয়ে৷এ নিয়ে বর্তমান কর্তাদের যুক্তি, স্বামীর পরিচয় এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য ছিল না।