স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ হুবহু পাঠ করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷ শুধু তাই নয়, রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে বলেছেন, জিএসটি-নোটবাতিল দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে৷ রাজ্যে সিএএ-এনআরসির আতঙ্কে মৃতদের জন্য শোকপ্রকাশ করেছেন৷ সেইসঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি৷

তবে এদিন বিকেলে তিন প্রিন্সিপ্যাল অ্যাকাউন্টট্যান্ট জেনারেলকে রাজভবনে তলব করেছেন রাজ্যপাল। বিকেল ৫টায় রাজভবনে সাক্ষাতের জন্য তলব করা হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে রাজভনে যাচ্ছেন মুখ্যসচিব।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল ঘোষণা করেছিলেন সরকারের তৈরি করে দেওয়া বক্তৃতার সঙ্গেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব বক্তব্যও জানাবেন। তাঁর দাবি, এটা তিনি করবেন তাঁর সাংবিধানিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন না করে। এদিন শান্তিনিকেতনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘‘সরকার রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে নিজের নীতি বলতে পারে। কিন্তু আমিও আমার প্রস্তাব দিতে পারি। আমি সরকারের ভাষণ পাঠ করব, কিন্তু নিজের প্রস্তাবও দেব। আমার ভাষণে সরকারের বক্তব্যের উপর টিপ্পনী থাকবে। প্রয়োজনীয় অংশে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও মতামতও জানাব।’’ কিন্তু এদিন রাজ্যের লিখে দেওয়া ভাষণের বাইরে গিয়ে রাজ্যপালকে একটি শব্দও বলতে শোনা গেল না৷ রাজ্যের তৈরি ১৬ পাতার ভাষণ-ই এদিন পাঠ করেন রাজ্যপাল।

তবে পরিষদীয় মহলের খবর ছিল, যদি রাজ্যপাল তাঁর বক্তৃতায় ‘নিজের কথা’ বলতে শুরু করতেন তাহলে প্রথমেই শাসক বেঞ্চ থেকে জোরাল প্রতিবাদ জানানো হত। এদিন NO NRC, NO CAA লেখা পোস্টার ও ব্যান্ড নিয়ে নিজ নিজ আসনে আসীন ছিলেন বিধায়করা। স্পিকার আগেই জানিয়ে রেখেছেন, লিখিত বক্তৃতার বাইরে রাজ্যপালের কোনও কথা নথিভূক্ত হবে না। সেক্ষেত্রে শুধু লিখিত বক্তৃতাটি পড়া হয়েছে বলে নথিতে থাকবে। এদিন বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথম রাজ্যপালের ভাষণের লাইভ সম্প্রচার করা হয়নি।

এদিন বাজেট বক্তৃতার পর রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখা গেল৷ বিধানসভায় পৌঁছনোর পর রাজ্যপালকে অভ্যর্থনা জানান অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর অধ্যক্ষের সঙ্গেই গিয়ে বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। তখন বিধানসভার মূল প্রবেশদ্বারে অপেক্ষা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গেই অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাজ্যপাল।বাজেট বক্তৃতার পর অধ্যক্ষের ঘরে মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল বৈঠক করেন৷ বৈঠকের পর রাজ্যপালকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী ও অধ্যক্ষ৷ দুজনেই রাজ্যপালের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়েছেন৷