কলকাতা: রাজ্য সরকারে দাবি ফণী ঘূর্ণিঝড়ের জেরে এখানে ৫৬৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে৷ এজন্য প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ তৈরি করে নবান্ন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কোনও এস্টিমেট পাঠান না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত সহায়তাও আসেনি।

বিধানসভায় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মন্ত্রী জাভেদ খান জানিয়েছেন, ফণীর জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ কেন্দ্র থেকে কোনও আর্থিক সহায়তাই আসেনি। পাশাপাশি তিনি জানান, এই ফণী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ২৯ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক অথবা পুরোপুরি ক্ষতি হয়েছে। ফলে সেই সব বাড়ি মেরামতির জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার অর্থ বরাদ্ধ করেছে , সেটা প্রায় ১৪ কোটি টাকা৷মন্ত্রীর বক্তব্য, ঝড়ের মূল অভিঘাত ওডিশায় হলেও এরাজ্যেও বেশ কিছু ব্লকে ক্ষতে হয়েছে ৷ যারজন্য ছ’লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

জাভেদ উল্লেখ করেন, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাইলেও পাওয়া গিয়েছে ১১০০ কোটি টাকা। তবে এ বারে আর্থিক সহায়তা চেয়ে কোনও এস্টিমেটই এখনও দিল্লিতে পাঠানো হয়নি। এই বিষয়ে তাঁর যুক্তি, নিদিষ্ট নিময় মেনে এস্টিমেট তৈরি করতে হয় এবং সেই কাজই তারা করছেন। ওই এস্টিমেট বানানো হলে তা কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, যখন রাজ্য ফণীর কবলে পড়ে তখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে খড়গপুরে হাজির ছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, এই বিপর্যয় মোকাবিলা করতে রাজ্য সরকারই সক্ষম। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফোনও এলেও তিনি সে সময়ে ধরেননি বলে ভোট-প্রচারের সময় বিতর্ক দানা বেধেছিল৷ ফলে বিভিন্নমহলে প্রশ্ন উঠছে- সেই কারণেই তবে কি এস্টিমেট বানিয়ে আর্থিক সহায়তা চাইতে দেরি হল?