স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের কি সত্যিই সংঘাত? নাকি সবটাই ‘লোকদেখানো ঝগড়া?’ রাজ্যপালের বাজেট বক্তৃতার পর এই প্রশ্ন উস্কে দিল বাম-কংগ্রেস। মমতার সরকারের লেখা বাজেট বক্তৃতায় মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কোনও সমালোচনা ছিল না৷ তাহলে কি রাজ্যপালের চাপেই বাধ্য হয়ে কেন্দ্র বিরোধী কথা বাজেট বক্তৃতা থেকে বাদ দিয়েছে মমতা সরকার? এই প্রশ্নও তুললেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাদের অভিযোগ, এদিনের পর কেন্দ্র-রাজ্যের গট-আপ স্পষ্ট হল৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্প্রতি রাজভবনে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর বেরিয়ে এসে বলেছিলেন, বিভিন্ন প্রকল্প খাতে কেন্দ্রের কাছে বহু কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে তা জানিয়েছি।কিন্তু সেই একই কথা কেন বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের বক্তৃতায় নেই তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাম-কংগ্রেস নেতারা। বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের বক্তব্য, “রাজ্যপালের বক্তৃতা রাজ্য সরকারই লিখে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রায়ই বলেন, কেন্দ্রে মোদী সরকার রাজ্যের সঙ্গে বঞ্চনা করছে। বকেয়া টাকা দিচ্ছে না। প্রকল্পের কাজে তাই দেরি হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। তাই যদি হয়, তা হলে সেই বঞ্চনার কথা রাজ্যপালের বক্তৃতার বয়ানের লেখা হল না কেন? তবে কি বোঝাপড়া হয়েছে!”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল ঘোষণা করেছিলেন সরকারের তৈরি করে দেওয়া বক্তৃতার সঙ্গেই তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নিজস্ব বক্তব্যও জানাবেন। তাঁর দাবি, এটা তিনি করবেন তাঁর সাংবিধানিক অধিকারের সীমা লঙ্ঘন না করে। এদিন শান্তিনিকেতনে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘‘সরকার রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে নিজের নীতি বলতে পারে। কিন্তু আমিও আমার প্রস্তাব দিতে পারি। আমি সরকারের ভাষণ পাঠ করব, কিন্তু নিজের প্রস্তাবও দেব। আমার ভাষণে সরকারের বক্তব্যের উপর টিপ্পনী থাকবে। প্রয়োজনীয় অংশে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও মতামতও জানাব।’’ কিন্তু এদিন রাজ্যের লিখে দেওয়া ভাষণের বাইরে গিয়ে রাজ্যপালকে একটি শব্দও বলতে শোনা গেল না৷ রাজ্যের তৈরি ১৬ পাতার ভাষণ-ই এদিন পাঠ করেন রাজ্যপাল। শুধু তাই নয়, বাজেট পড়ার পর স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে চা খান রাজ্যপাল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। পরে দেখা যায়, রাজ্যপালকে হাসিমুখে বিদায় জানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার।

আবদুল মান্নান বলেন, “রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া বক্তৃতায় যেমন কেন্দ্র বিরোধী কোনও ঝাঁঝ নেই। এমনকি নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধেই নমঃ নমঃ করে বিরোধিতা করা হয়েছে। তেমনই রাজ্যপালও খুশি খুশি পড়েছেন যে, বাংলায় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি রয়েছে। কোথাও কোনও অশান্তি নেই। নৈহাটিতে বিস্ফোরণ, জলঙ্গীতে তৃণমূলের গুলিতে তৃণমূলের খুন হওয়া, গঙ্গারামপুরে স্কুল শিক্ষিকাকে মারধর করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া—এসব বুঝি মঙ্গলগ্রহে হয়েছে। এর পরেও বুঝতে হবে বোঝাপড়া হয়নি!”

এরপরই মমতাকে নিশানা করে মান্নান বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাবেন না। উনি কার ভয়ে এত ভীত? একথা বললে আবার রেগে যাবেন। বলবেন, ভয় পাই না কাউকে। আসলে যিনি ভয় পান, তিনিই এমন বলে থাকেন। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে যদি উনি কথা বলতেন, তাহলে আমরা প্রশংসাই করতাম, পাশে থাকতাম। আসলে উনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে গিয়েছেন। আপনি কেন্দ্রের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন। ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলেন। একটা টুঁ শব্দটিও করলেন না’’।

বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সৌজন্য ও অসৌজন্যের লোকদেখানো খেলা চলছে। দুর্নীতিগ্রস্তরা কোনও দিনই কোনও লড়াই ঠিকমতো করতে পারে না। সামনে-পিছনে-মাঝে ভয় লুকিয়ে থাকে। লোকদেখানো ঝগড়া হচ্ছে যেন। ভিতরে ভিতরে ওঁদের সম্পর্ক এমন, ভাইফোঁটায় নিমন্ত্রণ নেই অথচ কালীপুজোয় সপরিবারে নিমন্ত্রণ রয়েছে’’। প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতের আবহেই গত কালীপুজোয় মমতার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন সস্ত্রীক রাজ্যপাল। যদিও ভাইফোঁটায় মমতার বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন ধনকড়।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ