স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: বীরভূমের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে খুনের হুমকির অভিযোগে ধৃত দলের নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল পুলিশ।

শনিবার দুপুরে নিত্যানন্দের শোওয়ার ঘর থেকে একটি দো’নলা বন্দুক এবং একটি ৬ এমএম পিস্তল উদ্ধার করেছে। সঙ্গে দো’নলা বন্দুকের দু’টি কার্তুজ উদ্ধার করেছে।

ফোনে অনুব্রত মণ্ডলকে গুলি করে খুন করার হুমকির অভিযোগে গত মঙ্গলবার গুসকরা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিত্যানন্দ হুমকির অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, স্ত্রীর অসুখের সময়ে তাঁর থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। ফেরৎ না দেওয়ায় সেই টাকা চেয়ে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

নিত্যানন্দবাবু বলেছেন “কেষ্ট মণ্ডলকে স্ত্রীর অসুখের সময় ২০ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছিলাম। বলেছিলেন, ৩, ৪ মাসের মধ্যে ফেরৎ দেবেন। বিশ্বাস করে ধার দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তা ফেরৎ দিতে অস্বীকার করছেন। আমার কাছে ধার নেওয়ার প্রমাণ আছে। তবু উনি দিচ্ছেন না। তাই হুমকি দিয়েছি। টাকা আমার ফেরৎ চাইই।” এমনকি পরে অনুব্রত মণ্ডলের ‘কলার ধরে’ তিনি টাকা আদায় করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন।

বলেছেন, প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও যাবেন। গ্রেফতারের পর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জেল হেফাজতের নির্দেশ হয়। তারপর পুলিশ আদালতের কাছে আবেদন করে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে।

শুক্রবার বর্ধমান আদালতে তোলার পর বিচারক নিত্যানন্দকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন পুলিশ দুপুরে তাঁর বাড়িতে আসে।পুলিশ নিত্যানন্দবাবুকে জিঞ্জাসা করে কোথায় রাখা আছে আগ্নেয়াস্ত্র?

নিত্যানন্দবাবু জানান, আলমারির লকারে পিস্তল এবং দেওয়াল আলমারিতে দো’নলা বন্দুকটি আছে। সেখান থেকে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি বন্দুকই লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং নিত্যানন্দের নামেই লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্স দু’টিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দো’নলা বন্দুকটি নিত্যানন্দের বাবার আমলের। বাবার মৃত্যুর পর তার নামে লাইসেন্স পরিবর্তন হয়। অপরদিকে পিস্তলটির লাইসেন্স ১৯৮১ সালে পেয়েছিলেন নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।