সুখের সময়ে

পাটনা: ফের বিস্ফোরক দাবি৷ পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় জেলবন্দি লালুপ্রসাদ যাদবের প্রকাশ হতে চলা আত্মকাহিনী ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপান উতোর৷ এই বইতে আরজেডি সুপ্রিমো তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, অন্তত ৫ বার নীতীশ কুমার মহাজোট গড়তে চেয়েছিলেন৷ এমন এক সময়ে বিহারের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এই অবস্থান নিয়েছিলেন. যখন তাঁর সঙ্গে সদ্য ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল শরিকি সম্পর্ক৷

জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যম আজ তক রিপোর্ট দিয়েছে, ‘গোপালগঞ্জ টু রাইসিনা-মাই পলিটিক্যাল জার্নি’ (Gopalganj to Raisina: My Political Journey) আত্মজীবনীতে বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেছেন লালু প্রসাদ যাদব৷ এতে তিনি বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন বিশদে৷ সেখানেই একসময়ের ‘বন্ধু’ নীতীশ কুমারের বিষয়েও লিখেছেন৷ আর সেটাই হয়ে দাঁড়াচ্ছে রাজনৈতিক চর্চার বিষয়৷ লালু-নীতীশ সম্পর্কের রসায়ন ঘিরে বিহার সরগরম৷

গত লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকে মানতে পারেননি তৎকালীন এনডিএ জোটের অন্যতম শরিক জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার৷ তিনি এনডিএ ত্যাগ করেন৷ তারপর আরজেডি ও জেডিইউ জোটের সরকার তৈরি হয়েছিল বিহারে৷ পরে ফের শিবির বদল করেছেন নীতীশ কুমার৷ এখন তিনি ফের এনডিএ শরিক ও বিজেপিকে সঙ্গে নিয়েই সরকার চালাচ্ছেন বিহারে৷

লালু প্রসাদের আত্মজীবনীতে লেখা হয়েছে, নীতীশ কুমারের সঙ্গে শরিকি সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পরেও তৈরি হয়েছিল জোটের সম্ভাবনা৷ বিশিষ্ট ভোট পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত কিশোরকে দূত করে নীতীশ কুমার অন্তত ৫ বার জোট বার্তা দিয়েছিলেন৷ আত্মজীবনীতে লালু প্রসাদের দাবি, প্রশান্ত কিশোর বারে বারে দেখা করে সেই কথা বলেছিলেন৷ তবে আর কোনওভাবেই সেই জোট গড়তে রাজি হয়নি আরজেডি৷

বইতে লেখা হয়েছে, লালু পুত্র তেজস্বী কোনওভাবেই নীতীশ কুমারকে বিশ্বাস কারতে পারেননি৷ যদিও নীতীশের দূত প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছিলেন, জেডিইউ ও আরজেডি মহাজোট হলে বিহারের মাটিতে বিজেপি সাফ হয়ে যাবে৷ কিন্তু নীতীশ কুমার কেন ফের এনডিএ-তে ফিরে গিয়ে জোট ছেড়েছিলেন তার যুক্তি মানতে পারেননি তেজস্বী যাদব৷

বিহারের মাটিতে এনডিএ জোট অর্থাৎ জেডিইউ ও বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ে রয়েছে আরজেডি ও কংগ্রেস৷ অন্যদিকে তৃতীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা হল বিভিন্ন বাম দল৷ গত কয়েকটি উপনির্বাচনে আরজেডি ও কংগ্রেসের জোটের কাছে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে এনডিএ৷