পাটনা: দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ফল দেখে চাপে পড়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। আর তাই নিজের রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে রণকৌশল নির্ধারণে তৎপর হয়েছেন জেডিইউ প্রধান। বছর শেষেই বিহারে বিধানসভা ভোট। তার আগে দলের ফাঁক-ফোকরগুলি মেরামতে ব্যস্ত নীতিশ। একইসঙ্গে দলের সংগঠনকে আরও মজবুত করতেও তৎপরতা নিচ্ছেন নীতিশ কুমার।

দিল্লির ভোটে ধরাশায়ী বিজেপি। মাত্র 8টি আসন জিতে কোনওরকমে অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রেকেছে গেরুয়া শিবির। দিল্লিতে এবার বিজেপি ও এলজেপির সঙ্গে জোট করে ভোটে লড়েছিল জেডিইউ। তবে তাঁদের সেই জোটকে একাই হেলায় উড়িয়েছেন কেজরিওয়াল।

রাজধানীর ভোটে আপ-এর এই বিপুল সাফল্যের পর নীতিশের প্রতিক্রিয়া, ‘জনতা মালিক হ্যায়।’ দিল্লিতে এবার কেজরির ভোটকুশলী ছিলেন একদা নীতিশ ছায়াসঙ্গী তথা জেডিইউ-এর প্রাক্তন সহ সভাপতি প্রশান্ত কিশোর৷ দিল্লির ভোট ঘিরেই পিকে-র সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি হয় নীতিশের৷

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মোদী-শাহকে বিঁধে একের পর এক টুইট করেন প্রশান্ত৷ জোটসঙ্গী বিজেপির বিরুদ্ধে দলেরই শীর্ষ নেতার এই আচরণ মেনে নিতে পারেননি নীতিশ৷ শেষমেশ পিকে-কে দল থেকে বহিষ্কার করেন তিনি৷ সেই পিকে-ই এখন কিংমেকার৷ ঘুম ছুটেছে নীতিশের৷ রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, ভোটকুশলী পিকে-ই দিল্লির মসনদে টিকে থাকার একাধিক উপায বাতলে দিয়েছিলেন কেজরিকে৷ পিকে-র টিপস মেনে চলেই কেজরিওয়ালের এই বিপুল সাফল্য৷

এই মূল্যায়নেই চাপ বাড়ছে নীতিশ কুমারের উপর। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এবারের বিহারের নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের অভাব বোধ করবেনই নীতিশ। সেই সম্ভাবনা আঁচ করেই তাই ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত নীতিশ কুমার। একদিকে দলের অন্দরের অসন্তোষ, অন্যদিকে জোটসঙ্গী বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা। সরকারিভাবে না হলেও মৌখিকস্তরেও দুই-ই তড়িঘড়ি সারতে চাইছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।

এরই পাশাপাশি রাজ্যে দলের সংগঠনকেও ঢেলে সাজাতে চাইছেন তিনি। একইসঙ্গে ভোটের আগের কয়েকমাস সরকারি পরিষেবা আরও মসৃণ করতে তৎপরতা নেওয়ার কথা ভেবেছেন।