নয়াদিল্লি: পাঁচ-ছয় দফার বদলে দু’দফাতে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন করা যায় কিনা সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ভেবে দেখার পরামর্শ দিল নীতি আয়োগ৷ ২০২৪ থেকে এই পদ্ধতি কার্যকর করা গেলে প্রশাসনিক কাজের সময় বাড়বে বলে মনে করছে নীতি আয়োগ৷

নির্বাচনের সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকার দরুন মন্ত্রীদের দফতরে পাওয়াই যায় না ৷ফলে ব্যাহত হয় প্রশাসনিক কাজ৷ এর উপর নির্বাচন বহু দফায় হলে সেক্ষেত্রে প্রায় দু-তিন মাস ধরে নির্বাচনের কাজেই ব্যস্ত থাকেন মন্ত্রীমশাইরা৷এখন নির্বাচনের জন্য এই সময় যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য একটি পরিকল্পনার প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছে নীতি আয়োগ৷সশাসিত এই প্রতিষ্ঠানের তরফে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে ২০২৪ থেকে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন বহু দফায় না করে দু’দফায় করা যায় নাকি তা একবার ভেবে দেখুক কমিশন৷ যদি তা কম করা যায় তাহলে প্রশাসনিক কাজে সময় বেশি যেমন পাওয়া যাবে তেমনই কাজের গতিও আসবে বলে ধারনা নীতি আয়োগের৷

এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর এই বিষয়ে নীতি আয়োগের প্রস্তাবকে মান্যতা দেওয়া হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ স্বশাসিত এই সংস্থার কথা মতো নির্বাচন করলে তা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে কিনা৷ সমস্যা হলেও তার সমাধানের রাস্তাই বা কি , তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে ওই কমিটিকে ৷আগামী ছ’মাসের মধ্যে কমিশনকে এই বিষয়ে নিজেদের মত জানানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে৷আগামী মার্চের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে৷

নির্বাচনের সময় কাটছাঁট করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলাপ আলোচনা চলছে৷রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই বিষয়ে নিজেদের মত জানিয়েছেন৷চলতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি৷সেখানে তিনি বলেন, লোকসভা আর বিধানসভা নির্বাচন যদি এক সঙ্গে করা যায় তাহলে তা ভালো হয়৷একই কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গলাতেও শোনা যায়৷ মোদী ও প্রণবের বক্তব্য ছিল নির্বাচন এক সময় হলে তাহলে একদিকে যেমন সময় বাঁচানো যাবে, উল্টোদিকে একইসঙ্গে নির্বাচনের জন্য যে বিপুল অর্থ খরচ হয় তাও কমানো যাবে অনেকটা৷