রায়গঞ্জ এবং মালদহ:  বিজেপির ডাকা উত্তরবঙ্গ বনধকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা রয়েছে রায়গঞ্জে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। রাস্তায় সরকারি বাস চলাচল করলেও দেখা নেই বেসরকারি বাসের। এদিন সকাল থেকেই বিজেপির কর্মী সমর্থকদের রাস্তায় নেমে পিকেটিং করতে দেখা গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার ডিপোর সামনে সরকারি বাস চলাচলে বাধা দিতে দেখা যায় বিজেপির কর্মীদের।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় র‍্যাফ, কমব্যাট ফোর্স সহ ডিএসপি, রায়গঞ্জ থানার আইসি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে পরিস্থিতি নিওয়ন্ত্রনে আসে। শহরের রাস্তায় লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে। ব্যাঙ্কগুলো বন্ধ রয়েছে। একই অবস্থা হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জেও। এদিকে বিধায়কের শেষকৃত্যে যোগ দিতে রায়গঞ্জে পৌঁছেছেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। মঙ্গলবার সকালেই রায়গঞ্জে তিনি পৌঁছন।

বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হত্যালীলা চলছে। গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করা হচ্ছে।” দলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়া, জঙ্গলমহল থেকে পাহাড়জুড়ে হত্যালীলা চলছে।

উত্তরবঙ্গের মানুষ এই প্রথম এমন নৃশংস ঘটনা দেখল। রাজ্যে এমন ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিধায়কের অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঠিক কারণ মানুষ জানতে চাইছে। পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে। পুলিশ ও সিআইডি একই টাকার দুইপিঠ। তাই সিবিআই তদন্ত হলেই একমাত্র সঠিক ঘটনা সামনে উঠে আসবে”।

অন্যদিকে, বিধায়ক খুনের প্রতিবাদে মালদহতেও চলছে বনধ। জেলা বিজেপি এদিন সাত সকালে মালদহ থানার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন চৌরঙ্গি মোর এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। অন্য দিকে ইংরেজবাজার এলাকায় জেলা বিজেপি কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের হয়ে জেলার প্রাণ কেন্দ্রে পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয় ডাকঘর।

এরপর রথবাড়ি মোড় এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ,সরকারি বেসরকারি বাস আটকে বিক্ষোভ দেখায়। মালদহ জেলা বিজেপির সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল বলেন,রাতের অন্ধকারে বিধায়ককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন এটা জঘন্যতম ঘটনা।

শাসকদল সারা রাজ্য জুড়ে অন্যায়-অত্যাচার খুনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে। এরই প্রতিবাদে এদিন আমরা দেখিয়েছি। সর্বোত্ত সফল বন্ধ। মানুষ স্বঃতস্ফুর্ত বনধকে সর্মথন করেছে।

অন্যদিকে, মালদহ জেলা তৃণমূল কার্যকারী সভাপতি দুলাল সরকার বলেন, এমনিতেই লকডাউন চলছে করোনা আতঙ্কে জেরবার মানুষ। বনধ বলে এই জেলায় কিছুই হয়নি। গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে সর্বাত্ম ব্যর্থ বনধ, এমনটাই দাবি তৃণমূলের।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ